বিহারে ভোটের ঢাকে কাঠি, বিজেপির দু-দফা দাবিতেই সিলমোহর?
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
বিহারে ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। সোমবার বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিহারে ৬ এবং ১১ নভেম্বর ভোট হবে। ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমারের দাবি ছিল, এক দফায় ভোট হোক। বিজেপির দাবি ছিল দু-দফায় ভোট এবং নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর ছিল, তারা তিন দফায় ভোট করানোর পক্ষে। কিন্তু শেষমেষ দেখা গেল, দু-দফায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করল কমিশন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তিন দফার কথা বলেও কেন পিছিয়ে গিয়ে দু-দফায় ভোট করা হচ্ছে? তাহলে কি শেষমেষ বিজেপির ইচ্ছাকেই মান্যতা দিল কমিশন? বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর ইস্যুতে প্রথম থেকেই কমিশনের সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের গোপন আঁতাত বা গাঁটছড়া দেখা যাচ্ছিল। এই মর্মে কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে কংগ্রেস-সহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোট নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির বি-টিম বলতেও কসুর করেনি।
এদিকে বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ইস্যুতে কাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা। শীর্ষ আদালত আগেই বলেছিল, এসআইআরে যদি কোনও অনিয়ম বা ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে পুরো প্রক্রিয়া বাতিল করা হবে। সেই ঝুঁকি মাথায় নিয়ে একদিন আগেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি এও জানান, ভোট হবে এসআইআর হওয়া তালিকা মেনেই। প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন ১৭ অক্টোবর। দ্বিতীয় দফার ২০ অক্টোবর। ফলপ্রকাশ ১৪ নভেম্বর। ঘটনাচক্রে সেদিন আবার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন।
উল্লেখ্য, শেষবার ২০২০ সালে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল তিন দফায়। শনিবার পাটনায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। সেখানেই বিজেপি দুই দফায় ভোটের দাবি করেছিল। নীতীশ কুমারের দল জেডিইউয়ের প্রস্তাব ছিল এক দফা। কমিশন তিন দফার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও এদিন নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিকে পাশে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোগানের বিষয় বিবেচনা করেই দু-দফায় ভোট হবে।
জানা গিয়েছে, বিহার নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকবেন মোট সাড়ে আট লক্ষ মানুষ। তার মধ্যে আড়াই লক্ষ পুলিশ কর্মী। পাশাপাশি ৪ লক্ষ ৫৩ হাজার ভোটকর্মী, ৮৯ হাজার ৭১২ অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকা থাকবেন। মোট ৯০ হাজার ৭১২ টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। এসআইআর করার পর ভোটদাতার সংখ্যা কমে হয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লক্ষ। অবশ্য বাদ পড়া যোগ্য ভোটাররা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন মনোনয়ন জমা দেওয়ার ১০ দিন আগে পর্যন্ত।








