মার্কিন রিপোর্ট খারিজ করল ইরান
নতুন পয়গাম
তেহরান, ১৬ সেপ্টেম্বর: ২০২২ সালের দাঙ্গা নিয়ে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রেকর বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। তেহরান প্রশাসনের তরফে বিদেশ মন্ত্রক আমেরিকার মন্তব্যকে ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমেরিকার শত্রুভাবাপন্ন ও অপরাধমূলক আচরণের সুস্পষ্ট উদাহরণ। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে সার্বভৌমত্বকে লংঘন করেছে ওয়াশিংটন।
তেহরান প্রশাসন আরো বলেছে, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের এ ধরনের বিবৃতি ভণ্ডামি, প্রতারণা ও ঔদ্ধত্য ছাড়া আর কিছু নয়। আরও বলা হয়েছে, কোনো যুক্তিবাদী এবং দেশপ্রেমিক ইরানি নাগরিক এমন এক সরকারের বন্ধুত্ব বা সহানুভূতির ওপর আস্থা রাখে না, যে সরকার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে চলেছে এবং ইরানিদের বিরুদ্ধে নানারকম অপরাধ চালিয়ে গেছে। ১৯৫৩ সালের ১৯ আগস্টের অভ্যুত্থান, ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে সাদ্দামের সঙ্গে সহযোগিতা ও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার, ১৯৮৮ সালে ইরানি যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং বিজ্ঞানীদের হত্যায় যায়নবাদী ইসরাইলি অপশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা — সবই মার্কিন অপরাধের অংশ। এমনকি গত জুন মাসে ইরানি নারী, শিশু ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যার ঘটনাকেও তারা সেই ধারাবাহিক অপরাধের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক আরও অভিযোগ করেছে, আমেরিকা এমন একটি দেশ, যারা দখলদার ও গণহত্যায় লিপ্ত যায়নবাদী ইসরাইলের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। একই সঙ্গে, যে রাষ্ট্রে বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্য শাসনব্যবস্থার অংশ, তাদের মুখে মানবাধিকার বিষয়ে মন্তব্য মানায় না। তেহরানের দাবি, ইসরাইল গত দুই বছরেরও কম সময়ে ৬৫ হাজারের বেশি নিরীহ নারী, শিশু-সহ নিরপরাধ গাজাবাসী নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ইরান কখনোই আমেরিকার বর্বর অপরাধ, অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং চলমান শত্রুতা ভুলবে না এবং ক্ষমাও করবে না।








