লোকালয়ে বাঘের উপদ্রব কমাতে জঙ্গলে সৌরচালিত অত্যাধুনিক ডিভাইস স্থাপন
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: সুন্দরবনে মানুষ ও বাঘের সংঘাত কমাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (WTI) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগ। রায়দিঘি রেঞ্জের অধীন কুলতলীর ৯ নম্বর আজমলমারী ও হেরোভাঙ্গা-০৯ বন কম্পার্টমেন্টের নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম (ANIDERS)। ক্যামেরা ট্র্যাপের পাশাপাশি বসানো এই প্রযুক্তিনির্ভর, অ-ঘাতক ব্যবস্থা মানববসতিতে বন্যপ্রাণীর অনুপ্রবেশ রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কুলতলি ব্লকের একাধিক গ্রাম জঙ্গল সংলগ্ন হওয়ায় বিশেষ করে শীতকালে বাঘের গ্রামে ঢোকার ঘটনা ঘটে। সেই প্রেক্ষিতে আগাম সতর্কতা জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। প্রতিটি ANIDERS ডিভাইস ১৮০ ডিগ্রি কোণে প্রায় ২৫-৩০ মিটার এলাকা কভার করতে পারে এবং সৌরশক্তিচালিত হওয়ায় বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল নয়। উন্নত মোশন-সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাণীর চলাচল শনাক্ত করে বন দফতরকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবে এই যন্ত্র।
WTI এর সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্টের ফিল্ড অফিসার সম্রাট পাল জানান, ইতিমধ্যে চারটি ANIDERS বসানো হয়েছে। বন্যপ্রাণ সংঘাত প্রশমন বিভাগের প্রধান ড. অভিষেক ঘোষাল বলেন, উত্তরপ্রদেশের পিলিভিত ও কাতারনিয়াঘাটে সফল পরীক্ষার পর প্রথমবার সুন্দরবনে এই প্রযুক্তি চালু করা হলো। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের প্রযুক্তি মানব-বাঘ সংঘাত কমাতে টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। গত বছরে ৩৮ বার বাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও এবার সেই সংখ্যা কমবে বলেই আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।








