ট্রাম্পকে শায়েস্তা করতে চীনকে ঢিল দিচ্ছে ভারত
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: দীর্ঘ পাঁচ বছর পর চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে ভারত সরকার। মূলত প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং সরঞ্জামের ঘাটতি মেটাতে ভারতের অর্থ মন্ত্রক এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সীমান্ত উত্তজনা হ্রাস এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের ৫০০ শতাংশ শুল্কারোপের বিষয়টিও। চীন, রাশিয়ার সঙ্গে সখ্যতা বাড়ানো ভারতের বিদেশনীতির নয়া কৌশল, যার মূল লক্ষ্য হল ট্রাম্প প্রশাসনকে শায়েস্তা করা।
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর, বিশেষত চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতের সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম জারি করা হয়েছিল। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলোকে ভারতীয় কোনো প্রকল্পে দরপত্র জমা দেওয়ার আগে বিশেষ কমিটির কাছে নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র নিতে হত। এই কড়াকড়ির ফলে প্রায় ৭০০-৭৫০ বিলিয়ন ডলারের সরকারি বাজার থেকে চীনা সংস্থাগুলো কার্যত ছিটকে পড়ে।
বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে এই বিধিনিষেধ শিথিলের আবেদন জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, চীনা সরঞ্জামের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের প্রকল্পগুলো থমকে আছে। বিশেষ করে আগামী দশকে ভারতের তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩০৭ গিগাওয়াটে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা চীনা যন্ত্রাংশ ছাড়া অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রাক্তন ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটিও এই বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতর পিএমও থেকে আসবে। উল্লেখ্য, সাত বছর পর গতবছর মোদীর চীন সফর এবং নতুন মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে ইন্দো-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করে। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং চীনা পেশাদারদের জন্য বিজনেস ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর ভারত কৌশলীভাবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে সরকারি প্রকল্পে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই-এর ক্ষেত্রে চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর কড়াকড়ি এখনই পুরোপুরি উঠছে না।








