বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ অর্ধেক কমাল ভারত
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান টানাপড়েনের ছায়া এবার পড়ল কেন্দ্রীয় বাজেটে। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ আর্থিক সহায়তার পরিমাণ এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিল ভারত সরকার। বিগত অর্থবর্ষে যেখানে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ১২০ কোটি টাকা, সেখানে এবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা নতুন বাজেটে তা কমিয়ে ৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের যে শীতলতা তৈরি হয়েছে, এই বাজেট বরাদ্দ তারই প্রতিফলন। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় ভারত যে চরম অসন্তুষ্ট, তা এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বক্তব্যে উঠে এসেছে। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং রাজ্যসভায় জানিয়েছেন, ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনাগুলি ভারত ‘নিয়মিত পর্যবেক্ষণ’ করছে এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায়েই ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বাংলাদেশের সেই অবস্থানের সমালোচনা করেছে, যেখানে এই হামলাগুলোকে কেবল ‘ব্যক্তিগত বিরোধ’ বা ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বরাদ্দ কমলেও প্রতিবেশি দেশ ভুটানের প্রতি ভারতের বন্ধুত্বের হাত আরও প্রসারিত হয়েছে।
এবারের বাজেটে ভুটানের জন্য সর্বোচ্চ ২২৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া নেপালের ক্ষেত্রেও ভারতের আর্থিক সহযোগিতা বজায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য এই বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে দিল্লির পক্ষ থেকে এক বড়সড় ‘কূটনৈতিক বার্তা’ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।








