আজ জিতলেই সিরিজ ভারতের, বেগ দিতে মরিয়া নিউজিল্যান্ডও
নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রথম ম্যাচ জিতলেও বিরাট কোহলি আউট হওয়ার পর একটা সময় ম্যাচটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল।হর্ষিত রানার মতো মূলত বোলারের ভালো ব্যাটিংয়ে উতরে যায়।অর্থাৎ যতক্ষণ বিরাট ক্রিজে থাকে,ততক্ষণ দল জয়ের সরনীতে থাকে।বিরাটের উইকেট পড়ে গেলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে ভঙ্গুর মনে হয়।অথচ এই বিরাটকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। তবে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেছেন ভিকে। লিখছেন নয়া ইতিহাস। পরিসংখ্যান বলছে, শেষ দশটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচেই পঞ্চাশের বেশি রান করেছেন তিনি। বরোদায় গত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ঝোড়ো ৯৩ রান গড়ে দিয়েছিল জয়ের ভিত। অল্পের জন্য ৫৪তম সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও কোহলি কিন্তু সমর্থকদের মন জিততে সফল। রাজকোটেও আকর্ষণের কেন্দ্রে বিরাটই। তাঁর দুরন্ত ফর্মই ভারতের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে। কোহলিকে ঘিরে উদ্বেলিত হচ্ছে রাজকোটও। তিন ম্যাচের সিরিজে আপাতত ভারত ১-০ এগিয়ে। পরের ম্যাচ ১৮ জানুয়ারি ইন্দোরে। গৌতম গম্ভীরের প্রশিক্ষণাধীন এই ভারতীয় দলের দ্বৈত চরিত্র। সাদা বলে যতটা দাপট, লাল বলে তার ঠিক উল্টো। ঘরের মাঠে দু’বছরে দু’বার হোয়াইটওয়াশের লজ্জা সেই কারণেই সঙ্গী হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার। ২০২৪ সালে ভারতে এসে নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। তবে সাদা বলে টিম ইন্ডিয়া পাল্টা কিউয়িদের চুনকাম করতে মরিয়া। তার জন্য দরকার দুরন্ত টিম গেম। ব্যাটিংয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে টপ অর্ডারকে। রোহিতের সঙ্গে গিলের ওপেনিং জুটি যদি মজবুত ভিত গড়ে দেয়, তাহলে কোহলি, শ্রেয়সরা সহজেই স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বড় রান তোলা বা চেজ করা সহজ হবে।
২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে দল নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন কোচ গম্ভীর। তবুও ব্যাটিং অর্ডারে লোকেশ রাহুলের আগে জাদেজাকে নামানোর কোনও যুক্তি নেই। লোকেশ স্পেশ্যালিস্ট ব্যাটার। তিনি ম্যাচ উইনারও। গত ম্যাচে মিলেছে তার প্রমাণ। তাছাড়া জাদেজা ব্যাট হাতে সেভাবে ছাপ ফেলতে পারছেন না। এদিকর চোটের কারণে ছিটকে গেলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁর জায়গায় কাকে খেলানো হয়, সেটাই দেখার। আয়ূশ বাদোনিকে দলে নেওয়া হয়েছে। তিনি মিডল অর্ডার ব্যাটার। মাঝে মধ্যে হাত ঘোরান। হঠাৎ করে বাদোনিকে নামিয়ে দেওয়া হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই পেস অলরাউন্ডার নীতীশ রেড্ডির খেলার সম্ভাবনা থাকছে। গত ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় পেলেও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে চিন্তায় রেখেছে বোলিং। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা শুরুটা ভালোই করেছিলেন। ডেভন কনওয়ে, হেনরি নিকোলস, উইল ইয়ং, ড্যারিল মিচেলরা কিন্তু পরীক্ষায় ফেলতে পারেন ভারতীয় বোলারদের। মিডল অর্ডারে গ্লেন ফিলিপস, ব্রেসওয়েল কিন্তু দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। মনে রাখতে হবে নিউজিল্যান্ডকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। নতুন বলে শুরুতেই আঘাত হানতে হবে। হর্ষিত রানা ব্যাটে-বলে পুষিয়ে দিলেও সিরাজের ফর্ম প্রশ্নের মুখে। তাই অর্শদীপের খেলার সম্ভাবনা থাকছে। তৃতীয় পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার পারফরম্যান্সও আহামরি নয়। স্পিন বিভাগে সুন্দরের অভাব ঢাকাও বড় চ্যালেঞ্জ। কুলদীপ ও জাদেজার উপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। অর্থাৎ বোলারদের পারফরম্যান্স ভালো হলে আজই সিরিজ পকেটে চলে আসতে পারে।আজ,
ভারত-নিউজিল্যান্ড।
দ্বিতীয় ওয়ানডে।
ম্যাচ শুরু দুপুর ১-৩০ মিনিটে।
সরাসরি স্টার স্পোর্টসে সম্প্রচার।








