‘বদল চাই, বদলাও চাই’ শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে জলঘোলা
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
২০১১ সালে রাজ্য পালাবাদলের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বদলা নয়, বদল চাই’। কিন্তু এবার তার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বদল হলে বদলাও নেওয়া হবে। অর্থাৎ দলীয় কর্মী-সমর্থক ও অনুগামীদের পরোক্ষে তিনি হাঙ্গামার উসকানি দিলেন। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মুখে এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য শোভনীয় নয়। বিরোধী দলনেতার পদমর্যাদা পূর্ণমন্ত্রীর সমতুল্য। সেই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত। এতে রাজ্যে রাজনৈতিক ময়দানে অশান্তির আগুন জ্বলবে। বুধবার ধর্মতলায় আদিবাসীদের প্রতিবাদ মিছিলে এমনই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন শুভেন্দু। যাকে অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে নিন্দায় সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল এবং সুশীল সমাজ।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী এও বলেন, “বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু নাগরাকাটায় গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গের বন্যাপীড়িত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। ভোট চাইতে ঝাণ্ডা নিয়ে তিনি যাননি। কিন্তু তাঁকে যেভাবে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে, তা আপনারা জানেন। একাধিকবারের সাংসদ ও বিধায়ক খগেন মুর্মুকে প্রহার করা হয়েছে, যা খুবই নিন্দনীয়। এরপর শুভেন্দু বলেন, খগেন মুর্মুদের রক্ত ঝরা দেখার পর আপনাদের রক্ত টগবগ করে ফোটেনি। আপনারা বদলা চান? তাহলে বদল আনুন। রাজ্যে বদল হলে সুদে আসলে আমরা বদলা নেব।
এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “উনি মানুষকে উত্যক্ত করছেন, প্ররোচনা দিচ্ছেন। সিপিএমের সাড়ে তিন দশকের চরম অপশাসনের পরেও মমতা ব্যানার্জী বলেছিলেন, ‘বদলা নয়, বদল চাই’। আর শুভেন্দু বদলা নেওয়ার হুমকি দিয়ে মানুষকে খেপাচ্ছেন, উসকানি দিচ্ছেন। এভাবে ভোটে জেতা যায় না। ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসতে হলে মানুষের মন জয় করতে হয়। বদলা নেওয়ার হুমকি বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষ মেনে নেবে না। ভোটবাক্সে তার জবাব দেবে। বিজেপি এবার বিধানসভা ভোটে আরো খারাপ ফল করবে বলেন কুণাল।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ২০২১ সালে মোদি-শাহরা রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে বলেছিলেন, আব কী বার, দোশো পার। কিন্তু ফলাফল কী হয়েছে, রাজ্যবাসী তা জানেন। শুভেন্দু যেসব কথা বলছেন, তাতে এবারও তাদের সরকার গড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। তার ওপর বঙ্গ বিজেপিতে গোষ্ঠী কোন্দল তীব্র। এখনও রাজ্য কমিটিই গঠন করতে পারেননি শমীক ভট্টাচার্য। শুভেন্দু, দিলীপ, সুকান্ত গোষ্ঠীর ত্রিফলায় বিদ্ধ হচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। সব মিলিয়ে রাজ্যে গেরুয়া শিবিরে যাচ্ছেতাই পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় ছন্নছাড়া ঘর গোছাতে না পেরে উসকানিমূলক কথা বলে কী বার্তা দিতে চাইছেন শুভেন্দু, এ প্রশ্ন জোরেশোরেই উঠছে।








