প্লাস্টিকের গোডাউনে দাউদাউ আগুন, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়ি:
ধূপগুড়ি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ায় সোমবার ভরদুপুরে একটি প্লাস্টিকের গোডাউনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গোডাউনটি পুরোপুরি ছাই হয়ে যায়। আগুনের তাপে আশপাশের বেশ কিছু গাছপালাও ভস্মীভূত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকারও বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী উত্তম দাসের মালিকানাধীন ওই গোডাউনে প্লাস্টিকের বস্তা সহ বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী মজুদ ছিল। দুপুরে হঠাৎই আগুন লেগে মুহূর্তে তীব্র লেলিহান শিখা গোডাউনটিকে গ্রাস করে। আতঙ্কে বাড়িঘর ফেলে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ধূপগুড়ি দমকলের দুটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ময়নাগুড়ি থেকে আরও একটি ইঞ্জিন এনে আগুন নেভানোর কাজ চালানো হয়।
দমকল সূত্রে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বন্ধ গোডাউনের ভেতরে চার্জে বসানো একটি টোটোর ব্যাটারি বিস্ফোরিত হওয়ার ফলেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। এর পর গোডাউনের ভেতরে থাকা দাহ্যবস্তুর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন নেভানোর কাজে বেশ সমস্যা পড়তে হয় দমকল কর্মীদের। দ্রুত জল ফুরিয়ে যাওয়ার পর দেখা যায় আশপাশে কোনো জলাধার নেই। ফলে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে জল সংগ্রহ করে আনতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে জলাশয় ভরাটের ফলে এমন বিপদের সময় জলের অভাব তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেশী উৎপল সেন জানান, “বাড়ির পাশেই হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা গ্রামে। আগুনের তাপে আমার বাড়ির বহু গাছপালা পুড়ে গেছে। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, টোটোর ব্যাটারি থেকেই আগুনের সূত্রপাত।”
ধূপগুড়ির প্রাক্তন সিপিএইম বিধায়ক মমতা রায় প্রশ্ন তোলেন, “জনবহুল এলাকায় প্লাস্টিকের গোডাউন অনুমতি নিয়ে কীভাবে খোলা হলো তা তদন্ত হওয়া দরকার। আগুন নেভানোর সময় দমকলের জল সংকটই প্রমাণ করছে জলাভূমি ভরাটের বিপদ আজ মানুষ টের পাচ্ছেন।”

ধূপগুড়ি অগ্নিনির্বাপন কেন্দ্রের ওসি রিন্টু কুমার সরকার জানান, “খবর পেয়েই দুটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। পরে জল ফুরিয়ে যাওয়ায় ময়নাগুড়ি থেকে আরও একটি ইঞ্জিন আনা হয়। সাড়ে তিন ঘণ্টা লড়াইয়ের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। গোডাউন মালিক ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাঁর ফায়ার লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্স ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে।








