পাক-সৌদি চুক্তি কেমন প্রভাব ফেলবে?
নাকি পর্বতের মুষিক প্রসব ছাড়া কিছু নয়?
বিশেষ প্রতিবেদন, নতুন পয়গাম
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে হঠাৎ করেই প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। দুই দেশ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই চুক্তি কতটা প্রভাব ফেলবে – সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি আরবের যুবরাজ বিন সালমান বুধবার ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (এসএমডিএ) সই করেন। সৌদির রাজধানী রিয়াদ শহরে পাক প্রধানমন্ত্রী ও যুবরাজকে এই সময় বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা গিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রায় আট দশক ধরে চলে আসা পুরোনো দুই মিত্র দেশের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষর যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারণ, মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান। পাক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন এক সময়ে হল, যখন এশিয়ার রাজনীতি টালমাটাল। পাকিস্তান নিজেও এর বাইরে নয়। প্রায় দু-বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ চলছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ইসরাইল লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে সৌদির সীমান্তবর্তী দেশ কাতারে হামলা করেছে ইসরাইল। এহেন জটিল প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা চুক্তি করল সৌদি ও পাকিস্তান।
পুলওয়ামা হামলার জেরে মাস চারেক আগে ভারত পাকিস্তান দুই নিকট প্রতিবেশি দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল। ভারতও পরমাণু শক্তিধর দেশ। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের থেকে অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী ভারত। শরিফ সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে এই চুক্তি দুই দেশের নিরাপত্তা জোরদার ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই চুক্তিতে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। তবে ভারতের কাছে এই চুক্তি নস্যি। সাত সমুদ্র পেরিয়ে এসে পাকিস্তানকে রক্ষা করতে পারবে না সৌদি আরব। এটা পারলে, তারা অনেক আগেই ইরান কিংবা ইসরাইলকে জব্দ করতে পারত।
পারেনি, তার কারণ, ভারত কিংবা ইরানের মতো বিজ্ঞান প্রযুক্তি বলে কিছুই নেই সৌদির। তাদের সবটাই ধার করা। আমেরিকা, ইউরোপের থেকে প্রচুর অস্ত্র কেনে সৌদি। সেই অস্ত্র দিয়ে তারা আরব বিশ্বের সবথেকে গরিব দেশ ইয়েমেনকে শায়েস্তা করছে। এর মাধ্যমে তারা যুগ্ধের নেট প্র্যাকটিশ করছে। অর্থাৎ আরবরা ইয়েমেনকে যুদ্ধের ল্যাবরেটরি বানিয়েছে। আমেরিকা, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ তো দূরের কথা, তাদের দিকে চোখ তুলে কথা বলার মতো হিম্মত সৌদির শায়খদের নেই। বরং তারা আমেরিকা, ইসরাইলের চাটুকারিতা করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অশান্তির আগুনে ঘি ঢালতে ওস্তাদ। এমন পরজীবী অমেরুদণ্ডী সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি অশ্ব ডিম্ব বা পর্বতের মুষিক প্রসব ছাড়া কিছু হবে না।








