BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

সঞ্জয় গান্ধীর প্রয়াণের ৪৫ পর ফিরে দেখা অতীত আকাশপথে কীভাবে মারা গিয়েছিলেন ইন্দিরা-পুত্র?

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৪৬ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৪৬

বিশেষ প্রতিবেদন

(বিমানবন্দরে ১০ মিনিট, আকাশে ১২ মিনিট। রাজীব গান্ধীর মতোই সঞ্জয় গান্ধীও ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও বিমান চালনায় দক্ষ ছিলেন। কিন্তু নয়াদিল্লিতে স্টান্ট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ হারান। জীবনে তিনবার হত্যাচেষ্টার ছায়া, বিতর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ এবং ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ ইতিহাসে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে তাঁকে। ১৪ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিনে তরুণ এই রাজনীতিবিদের ঘটনাবহুল জীবনের কিছু অনালোচিত ও অনালোকিত দিক সম্পর্কে লিখেছেন আবু হুরাইরাহ)

আরও পড়ুন:

১৯৮০ সালের ২৩ জুন, নয়াদিল্লি। সকালটা ছিল শান্ত, তবু ইতিহাসের এক অমোঘ অধ্যায়ের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে, সাবেক কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় গান্ধী মাত্র ৩৩ বছর বয়সে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর এমন মৃত্যু একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের শুধু শোকের ঘটনাই নয়; বরং ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিতর্ক, ষড়যন্ত্র ও রহস্যের গভীর অধ্যায় হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছে।
সঞ্জয় গান্ধীর জীবন ছিল রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক মেলবন্ধন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আগে তিনি একাধিকবার হত্যাচেষ্টারও শিকার হন। কিন্তু কীভাবে ঘটেছিল রহস্যেঘেরা সেই বিমান দুর্ঘটনা? রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও অনেক সাধারণ মানুষের কাছে আজও এটি কৌতূহলী এক প্রশ্ন।
সঞ্জয় গান্ধীর জন্ম ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৬। তাঁর জন্ম হয় দেশের সবথেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে। প্রপিতামহ মতিলাল নেহরু ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দাদু জওহরলাল নেহরু স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। মা ইন্দিরা গান্ধীও ছিলেন দেশের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৬-৭৭ ও ১৯৮০-৮৪)। ভাই রাজীব গান্ধীও পরে প্রধানমন্ত্রী হন। সঞ্জয়কে তাঁর মায়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হত।
সঞ্জয় গান্ধীর সবচেয়ে সমালোচিত পদক্ষেপ ছিল ‘স্টপ অ্যাট টু’ নামে জন্মনিয়ন্ত্রণ অভিযান। লক্ষ্য ছিল, দেশের জনসংখ্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ৬০ লক্ষাধিক পুরুষকে জোর করে বন্ধ্যাকরণ করা হয়। এ অভিযান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
পুলিশ গ্রাম ঘিরে ফেলত এবং দরিদ্র পুরুষদের ধরে এনে বন্ধ্যাকরণ করানো হত বলে অভিযোগ। ছোটবেলা থেকেই সঞ্জয়ের মনোযোগ ছিল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ওপর। ইংল্যান্ডে রোলস-রয়েস প্রতিষ্ঠানে তিনি অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭৬ সালে পাইলট হিসেবে লাইসেন্স পান এবং অ্যারোবেটিক চালনায় তাঁর দক্ষতা ছিল। এই আগ্রহ তাঁর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উইকিলিকসের নথি অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী ছেলে সঞ্জয়কে কখনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেননি। তবু জরুরি অবস্থার সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এবং কংগ্রেসের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার দায়িত্ব সঞ্জয়ের হাতে ছিল।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্কিত ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ১৯৭৫ সালের জুনে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর সঞ্জয় গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। জরুরি অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধী নাগরিক অধিকার স্থগিত করেন এবং কয়েক হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার করেন বলে অভিযোগ। ওই সময় সঞ্জয় কার্যত মায়ের উপদেষ্টার ভূমিকা নেন এবং ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময় (জুন ১৯৭৫-মার্চ ১৯৭৭) নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রভাব আরও বাড়াতে বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেন সঞ্জয়। ‘স্টপ অ্যাট টু’ ছিল সঞ্জয় গান্ধীর পাঁচ দফা কর্মসূচির একটি। অন্য চারটি ছিল গাছ লাগানো, সাক্ষরতা বাড়ানো, বিয়েতে পণ বা যৌতুকের বিরুদ্ধে লড়াই ও বর্ণব্যবস্থার বিলুপ্তি।
সঞ্জয়ের আরেকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছিল ভিড়ভাট্টা ও দরিদ্র মানুষের বসতি উচ্ছেদ। কিছু এলাকাকে নগর উন্নয়নের পথে বাধা মনে করতেন তিনি। ফলে পুরোনো দিল্লির বহু বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন, যার মধ্যে জামা মসজিদ ও তুর্কমান গেটের এলাকাগুলোও ছিল। দিল্লিই ছিল এসব উচ্ছেদের প্রধান কেন্দ্র। তবে গুজরাট, হরিয়ানা-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে একই অভিযান চালানো হয়। তুর্কমান গেটে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। ১৯৭৭ সালে গঠিত জাস্টিস জে.সি শাহ তদন্ত কমিশন জানায়, অন্তত ৬ থেকে ২০ জন নিহত হন। পুরো অভিযানে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। শাহ কমিশন এই উচ্ছেদ অভিযানকে জরুরি অবস্থার সময় সরকারের করা ‘সবচেয়ে বড় মাত্রার অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার’ বলে মন্তব্য করে।
ব্যঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র ‘কিসসা কুর্সি কা’ (একটি সিংহাসনের কাহিনি) ধ্বংসের ঘটনাতেও সঞ্জয় সরাসরি জড়িত ছিলেন। ‘কিসসা কুর্সি কা’ ১৯৭০-এর দশকে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে ব্যঙ্গ করেছিল। সঞ্জয় চলচ্চিত্রটির প্রিন্ট পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধী | জীবনী, কংগ্রেস পার্টি, ইন্দিরা গান্ধী, জরুরি অবস্থা, এবং  মৃত্যু | ব্রিটানিকা
১৯৭৮ সালে জরুরি অবস্থা শেষে, চলচ্চিত্রটি পুনরায় চিত্রায়িত হয় ও মুক্তি পায়। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টে চলচ্চিত্র ধ্বংসের ঘটনায় মামলা হয়েছিল। মামলায় আদালত সঞ্জয় গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছর কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালীন তিনি এক মাস কারাগারে ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে খালাস পান।
বিতর্কিত নানা পদক্ষেপের কারণে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী হেরে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন। তবে ১৯৮০ সালে কংগ্রেস আবার জয়ী হয় এবং সঞ্জয় গান্ধী লোকসভার সাংসদ হন। তিনি দেশের রাজনীতিতে মায়ের পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ১৯৮০ সালের মে মাসে, মৃত্যুর ঠিক এক মাস আগে, তিনি তাঁর মায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস (আই) দলকে ৯টি রাজ্যে নির্বাচনের মধ্যে আটটিতে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধীকে স্মরণ করা: ভবিষ্যতের নেতা যিনি খুব তাড়াতাড়ি মারা গেছেন -  ইন্ডিয়া টুডে
হত্যাচেষ্টা ও নিরাপত্তাঝুঁকি:

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধী রাজনৈতিক জীবনে তিনবার হত্যাচেষ্টার সম্মুখীন হন। মার্কিন দূতাবাসের এক নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে অজ্ঞাত হামলাকারী সঞ্জয় গান্ধীকে নিশানা করেছিল। একই বছরের আগস্টে তাঁকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি করা হয়, তবে তিনি গুরুতর আহত হননি। এ ঘটনা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়। হত্যাচেষ্টার পেছনে দায়ী করা হয় ‘বহিরাগত শক্তি’কে। হত্যাচেষ্টার এই তথ্য উইকিলিকস প্রকাশ করার আগে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের মধ্যেই সীমিত ছিল এবং জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পরও কোনো তদন্তে প্রকাশ পায়নি।

আরও পড়ুন:

বিমান দুর্ঘটনার দিন:

আরও পড়ুন:

২৩ জুন ১৯৮০-এর সেই সকালে, সঞ্জয় গান্ধী সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে কুর্তা-পায়জামা ও কোলাপুরি চপ্পল পরে সফদরজং বিমানবন্দরে পৌঁছন। তিনি নিজের প্রিয় স্টান্ট বিমানের ককপিটে ওঠেন। সামনের আসনে ছিলেন প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সুভাষ সাক্সেনা। সঞ্জয়ের এটি চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের। তবু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি আকাশে ওড়ে। অর্থাৎ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সঞ্জয় আকাশে স্টান্ট শুরু করেন। কিন্তু বিমান যথাযথ উচ্চতায় পৌঁছাতে না পারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ডানা নিচে গাছে ধাক্কা খায়। উড়ানের মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে সকাল ৮টা ১০ মিনিট বিমানটি নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনের কাছেই বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন সঞ্জয় গান্ধী ও ক্যাপ্টেন সাক্সেনা। জানা যায়, তাঁর মৃত্যু মাথায় আঘাতের কারণে হয়েছে।
ইন্দিরা গান্ধী নিজের অফিসেই ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে শুধু বিমানের ধ্বংসস্তূপই দেখতে পান। কংগ্রেস নেতাদের মতে, সঞ্জয় ছিলেন ইন্দিরার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। তাই এই মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য ছিল এক গভীর আঘাত। সঞ্জয়ের মৃত্যুতে ইন্দিরা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশ্যে বিষয়টি দেখাননি। রাজনীতিবিদদের ধারণা, যদি সঞ্জয় গান্ধী অকালেই মারা না যেতেন, তবে কংগ্রেসের বর্তমান ও দেশের রাজনৈতিক চিত্র হয়ত ভিন্ন কিছু হত।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:

আরও পড়ুন:

বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয় গান্ধী নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় কংগ্রেস-ইউ দলের আর.পি যাদব ১৯৮০ সালের ১১ অক্টোবর একটি চিঠি প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও বিরোধী রাজনীতিক নানাজী দেশমুখ একজন উগ্র হিন্দু মেকানিককে বিমানের ইঞ্জিনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ওই মেকানিক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর সদস্য ছিলেন।
অভিযোগ ওঠে দলের বিহারের সদস্য আর.পি সারাঙ্গী দলীয় সভাপতি অটল বিহারী বাজপেয়ীকে চিঠিটি লিখেছিলেন। তবে তিনি চিঠি লেখার অভিযোগ অস্বীকার এবং যাদবকে ‘চরিত্রহানি’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। কীভাবে চিঠির ওই ফটোকপি পেয়েছেন, সেটি যাদব বলেননি। আর বাজপেয়ী বলেছিলেন, তিনি কখনো চিঠিটি পাননি এবং অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সরকারিভাবে তদন্তের দাবি করেন।

আরও পড়ুন:

30 বছর ধরে নিখোঁজ সঞ্জয় গান্ধীর মূর্তি, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে কংগ্রেস  খুঁজে বের করল - ওড়িশাপোস্ট
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও গভীর হয় যখন সঞ্জয়ের মৃত্যু নিয়ে বিজেপির সাবেক রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রামনিয়াম স্বামী ২০১৮-১৯ সালে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সোভিয়েতরা বিমানে ফাটল তৈরি করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল এবং সোনিয়া গান্ধী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবির এজেন্ট ছিলেন। সুব্রামনিয়ামের অভিযোগ, সোভিয়েত ইউনিয়ন সোনিয়ার সুবিধার জন্য সঞ্জয়কে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
সোনিয়ার বাবাও কেজিবির একজন এজেন্ট ছিলেন, যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্দী করার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়োগ করেছিল বলে অভিযোগ করেন স্বামী। সুব্রামনিয়াম স্বামী টুইট করেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত টিডিকে-কে সুবিধা দেওয়ার জন্য সোভিয়েতরা তাঁর (সঞ্জয়ের) বিমানে একটি ফাটল তৈরি করে এবং তাঁর জীবন শেষ করে। বিমানটি আশোকা হোটেলের কাছে বিধ্বস্ত হয়, কিন্তু বিস্ফোরিত হয়নি। কেন?’
সঞ্জয় গান্ধীর স্ত্রী মানেকা গান্ধী ও ছেলে ফিরোজ বরুণ গান্ধী জীবিত ছিলেন। দুজনই পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সঞ্জয় মাত্র ৩৩ বছর বয়সে চলে গেলেও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর প্রভাব আজও অম্লান। তাঁর অকালমৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা বদলে দেওয়ার একটি মুহূর্তও।
সঞ্জয় গান্ধী বেঁচে থাকলে হয়ত কংগ্রেসের নেতৃত্ব, দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য ও নীতিনির্ধারণের রূপ ভিন্ন হত। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভাই রাজীব গান্ধী উঠে আসেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে। সঞ্জয়ের মৃত্যু-রহস্য, হত্যাচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আজও বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সব মিলিয়ে, কীভাবে একজন নেতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি পুরো দেশের রাজনৈতিক গতিপথ গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সেটিই মনে করিয়ে দেয় সঞ্জয়ের জীবন ও মৃত্যু। (ঋণ স্বীকার: প্রথম আলো)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder