বয়স মাত্র দশ বছর কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা
নতুন পয়গাম, তৌসিফ আহম্মেদ, বাঁকুড়া: বয়স মাত্র দশ বছর। কিন্তু সাফল্যের নিরিখে সে অনেক বড়দেরও অনুপ্রেরণা। ছোট্ট খুদে প্রতিযোগী রাজন্যা রায় তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার জোরে আজ বাঁকুড়া জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রাজন্যার জিমন্যাস্টিকের প্রতি আগ্রহের শুরু খুব ছোটবেলা থেকেই। মাত্র তিন বছর বয়সেই তার মধ্যে এই খেলাটির প্রতি টান লক্ষ্য করেন বাবা-মা। সেই আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েই তাঁরা ছোট্ট রাজন্যাকে জিমন্যাস্টিক শেখানোর ব্যবস্থা করেন। ধীরে ধীরে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করতে থাকে রাজন্যা। প্রথম সাফল্য আসে নিজের স্কুল পর্যায়ে– স্কুল প্রতিযোগিতায় জিমন্যাস্টিকে প্রথম স্থান অধিকার করে সে। সেখান থেকেই শুরু তার জয়যাত্রা। এরপর স্কুলের প্রতিনিধিত্ব করে পঞ্চায়েত স্তরে অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করে রাজন্যা। পরপর সার্কেল স্তর, বিষ্ণুপুর সাব-ডিভিশন এবং জেলা স্তরের প্রতিযোগিতাতেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে একের পর এক প্রথম স্থান অর্জন করে।
সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায়। রাজ্য জিমন্যাস্টিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করে সোনার পদক জয় করে রাজন্যা রায়। এই সাফল্যের মাধ্যমে সে শুধু নিজের পরিবার নয়, গোটা বাঁকুড়া জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রাজন্যার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার বাবা-মায়ের নিরন্তর সহযোগিতা ও উৎসাহ। পাশাপাশি তার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবসময় তাকে অনুপ্রেরণা ও সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছেন। জিমন্যাস্টিক প্রশিক্ষক মুকেশ চৌধুরী স্যারের কাছেই নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে আরও নিখুঁত করে তুলছে সে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জিমন্যাস্টিকের পাশাপাশি রাজন্যা নাচ, গান, আঁকা এবং পড়াশোনাতেও সমান পারদর্শী। পাত্রসায়ের ব্লকের তেলুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী এই খুদে প্রতিযোগী ইতিমধ্যেই নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। এত অল্প বয়সেই লক্ষ্য স্থির রেখে যেভাবে এগিয়ে চলেছে রাজন্যা রায়, তাতে গোটা বাঁকুড়া জেলার মানুষ তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন।








