হ্যান্ডশেক-গেট!ক্ষমা চাইলেন অ্যান্ডি পাইক্রফট্।
আম্পায়ার ক্ষমা না চাইলে মাঠে নামবে না পাকিস্তান, এমন পরিস্থিতিতে এক ঘন্টা দেরিতে শুরু হয় এশিয়া কাপের পাকিস্তান বনাম আমিরাত ম্যাচ
এশিয়া কাপ ক্রিকেটের মঞ্চে বিরল এক নাটকীয় পরিস্থিতির জন্ম দিল গতকাল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচের আগে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট যদি ক্ষমা না চান, তবে তারা মাঠে নামবে না। ফলে ম্যাচ শুরুর সময়ে দেখা দিল বড়সড় জটিলতা, প্রায় এক ঘন্টা দেরিতে শুরু হয় খেলা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পাকিস্তানের আগের ম্যাচে ভারতীয় দলের বিপক্ষে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)-এর অভিযোগ, ওই ম্যাচে ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট দল-শিট বিনিময়ের সময় অযথা হস্তক্ষেপ করেন এবং ম্যাচ-পরবর্তী হ্যান্ডশেকের বিষয়েও প্রভাব খাটান। তাদের মতে, এই আচরণ ক্রিকেটের সৌজন্য ও স্পিরিট অফ ক্রিকেটের পরিপন্থী।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) কাছে দাবি জানায়, পাইক্রফটকে সরিয়ে অন্য কাউকে ম্যাচ রেফারি হিসেবে নিযুক্ত করার জন্য। তবে আইসিসি সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানায়, পাইক্রফটই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এরপর পাকিস্তান দল হোটেল থেকে বেরোতে অস্বীকার করে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ শুরু সম্ভব হয়নি।
অবশেষে দীর্ঘ আলোচনার পর ম্যাচ রেফারি “মিসকমিউনিকেশন” বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এর পরেই পাকিস্তান দল মাঠে নামতে রাজি হয়। যদিও এতে প্রায় এক ঘন্টা দেরি হয়ে যায়, তবুও খেলা শুরু করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনা ঘিরে ক্রিকেট মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রেফারি ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি খেলোয়াড় ও বোর্ডগুলিরও সংযমী ও পেশাদার আচরণ প্রয়োজন। নচেৎ খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কই প্রাধান্য পাবে।
এশিয়া কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে এমন নাটকীয় পরিস্থিতি ক্রিকেটপ্রেমীদের অবাক করেছে। অনেকেই বলছেন, খেলার সৌন্দর্য অটুট রাখতে সব পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত। কারণ ক্রিকেট শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এটি দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ক্রীড়াস্পিরিটের প্রতীক।








