মরুভূমি হতে চলেছে অর্ধেক পৃথিবী
নতুন পয়গাম, ভিয়েনা, ১৯ সেপ্টেম্বর:
উষ্ণায়ন তথা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক ভূকণ্ড মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার পথে বলে মন্তব্য করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ এর মরুকরণবিরোধী সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশন্স কনভেনশন টু কমব্যাট ডেজার্টিফিকেশন’ (ইউএনসিসিডি)। শুষ্ক এবং কম বৃষ্টিপাতপ্রবণ এলাকার এসব ভূমিতে বিশ্বের ৪৫ শতাংশ কৃষি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও চরম খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত এই অঞ্চলগুলোকে অনুর্বর মরুভূমিতে রূপান্তর করছে।
বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই শুষ্ক অঞ্চলে বসবাস করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভূমির ‘অবনতি‘র কারণে খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য ও ব্যাপক উদ্বাস্তু সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবে কপ-১৬ জলবায়ু সম্মেলনে ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন হেক্টর মরুকৃত ভূমি পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হবে।
উল্লেখ্য, মরুকরণ হল এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে উর্বর ভূমি জীববৈচিত্র্য এবং উৎপাদনশীলতা হারিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতে, বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ৪০ শতাংশ ভূমি মরুকরণের শিকার। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং অপ্রত্যাশিত কৃষি কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরায়ণ এই সমস্যার প্রধান কারণ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সাল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। ২০৫০ সালের মধ্যে খরা বিশ্বের ৭৫ শতাংশ জনসংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। ওই রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, নারীর চাইতে পুরুষরা সাধারণত উচ্চ ফলনশীল একক সংস্কৃতিতে মনোযোগ দেয়, যা দ্রুত ভূমির অবনতি ঘটায়।
মরুকরণের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়ছে। প্রতিনিয়ত উর্বর ভূমি অবনতির শিকার হওয়ায় জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বাড়ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতে, সীমিত সম্পদের কারণে সঙ্ঘাত এবং বাধ্যতামূলক স্থানান্তরের মতো সামাজিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইউএনসিসিডি-র সেক্রেটারি ইব্রাহিম থিয়াও বলেন, ‘ভূমি আমাদের জীবন ধারণের অন্যতম মূল ভিত্তি, যা খাদ্য সরবরাহ করে, অর্থনীতি শক্তিশালী করে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখে।’
রাষ্ট্রসঙ্ঘ মাটি পুনরুদ্ধার এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিম আফ্রিকায় ‘হাফ-মুন’ তৈরির মাধ্যমে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে সহজে তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে ‘গ্রেট গ্রিন ওয়াল’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কিমি. এলাকায় গাছপালা রোপণ করা হচ্ছে। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রকল্পটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমন্বিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা ছাড়া এই সঙ্কট মোকাবিলা সম্ভবপর নয়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূমির অবনতির ঝুঁকি মানবতার ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে তুলেছে। এমনিতেই পূথিবীর তিনভাগ জল, একভাগ মাত্র স্থল। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ ভূখণ্ড মরুভূমিতে পরিণত হয়, তাহলে বিশাল সমস্যা দেখা দিতে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।








