উত্তরবঙ্গে বন্যা দুর্গতদের ক্ষতিপূরণ ও চাকরি ঘোষণা মমতার
নতুন পয়গাম, শিলিগুড়ি:
উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের পরিবারের হাতে এদিন তিনি ৫ লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দেন। সঙ্গে পরিবারের একজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন, জল নামলেই সার্ভে শুরু হবে। ভেঙে যাওয়া বাড়িঘর মেরামত বা তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার। চা বাগানের ক্ষতিপূরণে বাগানের মালিক ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করবে। যেসব রাস্তা ও সেতু ভেঙে গিয়েছে বা ধসে গিয়েছে সেগুলিও দ্রুত সংস্কার করে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি যেসব এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সেখানে ইতিমধ্যেই রাস্তা ও সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মানুষজন ও হাল্কা গাড়ি যাতে চলাচল করতে পারে, সেজন্য হিউম পাইপ দিয়ে আগামী ২০ দিনের মধ্যে অস্থায়ীভাবে সেতু নির্মাণ করে দেবে রাজ্য। এদিন নাগরাকাটার দুর্গত অসহায় মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের করুণ আর্তি শোনেন। সেইমতো প্রশাসনের কর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কাল মঙ্গলবার তিনি মিরিকে দুর্গত এলাকায় যাবেন। সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক।
এদিকে সোমবার থেকেই বৃষ্টির দাপট অনেকটা কমেছে। ফলে নতুন করে পাহাড়ে ধসের খবর পাওয়া যায়নি। ধসের জেরে অবশ্য বন্ধ রোহিণীর রাস্তা। দুধিয়া হয়ে মিরিকের রাস্তাও বন্ধ। পাহাড়ে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতা চালাচ্ছে প্রশাসন। এ পর্যন্ত ৩৩০০ পর্যটককে সমতলে নামিয়ে আনা হয়েছে। মিরিক, পুলবাজার ও সুখিয়াপোখরিতে এখনও কিছু পর্যটক রয়ে গিয়েছেন। যাঁরা পাহাড়ে রয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে হোটেল, রিসর্ট যেন থাকা-খাওয়ার জন্য কোনও টাকা না নেয়, সেই নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, রাজ্য এই টাকা দেবে।
এদিকে লন্ডভন্ড পাহাড়-ডুয়ার্স। চারদিকে শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন। ম্লান উৎসবের আমেজ। ভয়াবহ বিপর্যয়ের জেরে মিলিয়ে গিয়েছে বাসিন্দাদের মুখের হাসি। দুধিয়া-মিরিক, দার্জিলিংয়ের বিজনবাড়ি বা জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা, বানারহাট, গয়েরকাটা, ক্রান্তি — সর্বত্র হাহাকার। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। প্রবল বর্ষণ ও ধসের জেরে রবিবারই পাহাড় ও ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ৩০ জনের প্রাণহানি হয়। সোমবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩৬। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃত্যুমিছিল দীর্ঘ হতে পারে।








