তীব্র জল সংকটে গাজাবাসী
নতুন পয়গাম: যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট চলছে। অনেক পরিবারকে নিরাপদ খাবার জল সংগ্রহ করতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এছাড়া বিশুদ্ধ জলের জন্য ত্রানবাহী ট্রাকের জন্যও অপেক্ষা করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে।
অন্যদিকে, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে মানবিক সহায়তা সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে খাবার জোগাড়ের জন্য। সিজফায়ার বা যুদ্ধবিরতির চার মাস পরও এখনো বাস্তবে পরিবর্তন হয়নি গাজার চিত্র।
জেনিনের একজন বাসিন্দা বলেন, ‘প্রতিদিন দুই-তিন গ্যালন পানি ভর্তি করতে আমাদের তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগে। পানির ঘাটতি সহ্য করা যাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভোর ৫টায় উঠি এবং পানির লাইনে দাঁড়াই, যাতে সন্তানদের জন্য পানির ব্যবস্থা করতে পারি। সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে পানি সরবরাহ হয়, তারপর ট্রাক চলে যায়।’
অন্য এক খবরে প্রকাশ, তীব্র পানির সংকটে ভুগছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জনগণ। শুকিয়ে গেছে তাদের ফসলের মাঠ। পর্যাপ্ত খাবার পানি পাচ্ছে না বাসিন্দারা। পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বহু ফিলিস্তিনি। পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ পানির উৎস দখল ও ধ্বংস করে ফেলেছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা।
২০২৩ সালে গাজা-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেড়েছে সহিংসতার হার। জাতিসংঘের তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ৯ শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এ অঞ্চল থেকে তাদের বিতাড়িত করার মিশনে নেমেছে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরেই পানির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। এবার ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বেশ কয়েকটি পানির উৎস বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। জাতিসংঘ বলছে, গেল ছয় মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরের পানির কূপ, পাইপলাইন, সেচ নেটওয়ার্ক এবং পানির অবকাঠামোতে ভাঙচুরের ৬২টি ঘটনা ঘটেছে।
পানির সংকটে পর্যাপ্ত খাবার পানি পাচ্ছে না বাসিন্দারা। শুকিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। তীব্র পানির সংকটে ভুগছে গবাদি পশু। পশ্চিম তীরের প্রশাসনিক রাজধানী রামাল্লায় পানির সংকটে বাসিন্দারা হাহাকার করছে।
পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা বলেন, ‘ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা পানি সরবরাহের পাইপগুলো ভেঙে ফেলেছে। বেশ কয়েকবার সেগুলো মেরামত করেও লাভ হয়নি। পশ্চিম তীরের প্রধান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। তাই আমরা এ জায়গা থেকে পানি সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছি। এখন পানি নিয়ে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে আমাদের সংঘাত চলছে। এটিই এখন সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
রামাল্লাহ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আইন সামিয়ায় একটি মিঠা পানির ঝর্ণা ও পানি বিতরণ কেন্দ্র দখল করে রেখেছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। অথচ এই উৎসগুলোর ওপর প্রায় ২০টি ফিলিস্তিনি গ্রাম নির্ভর করে আছে। পানির উৎস ধ্বংস বা নষ্ট করার বিষয়টি ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করলেও, কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।








