গাজা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক
নতুন পয়গাম, নিউ ইয়র্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর:
রাষ্ট্রসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলির অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েকটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করলেন। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কাতারের আমির, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ যুবরাজ বিন সালমান, ইন্দোনেশিয়া, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের একেবারে পাশেই ডানদিকের চেয়ারে বসেছিলেন এরদোগান। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি।
প্রায় ঘণ্টা খানেকের এই বৈঠকে মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনাকে ‘এক বড় সম্মান’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি এই বৈঠকের জন্য সবার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, আপনারা দারুণ কাজ করছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। ন্যাটোর সদস্য দেশ তুরস্ক ইতিমধ্যেই গাজায় ইসরাইলের হামলাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হিটলারের থেকেও খারাপ বলেছেন। ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করেছে এবং যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বৈঠকের পর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দ্রুত একটি যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে। তবে এর থেকে বেশি কিছু জানাননি এরদোগান। অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেননি। পরে ট্রাম্প এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে জানান, গাজা যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। ট্রাম্প গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও যুদ্ধপরবর্তী গাজার শাসন ব্যবস্থার পরিকল্পনার ইংগিত দিয়ে বলেন, যেখানে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। ওয়াশিংটন চাইছে, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো সেনা পাঠিয়ে ইসরাইলের প্রত্যাহার নিশ্চিত করবে এবং গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য অর্থায়ন করবে।
ট্রাম্প এও জানান, এই পরিকল্পনা ইসরাইল তৈরি করেনি। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে এই বৈছক এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে হয়েছে। সূত্রের খবর ইসরাইল জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পর্ক থাকা চলবে না। দু’দিন আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, যুদ্ধ পরবর্তী গাজা উপত্যকার দায়িত্বে থাকবে যৌথ শান্তিরক্ষী বাহিনী। রাষ্ট্রসংঘের অধীনে তারা কাজ করবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্টোনিও গুটেরেস মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সবচেয়ে উত্তম পথ হল ইসরাইলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক টেকসই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন। আন্তর্জাতিক মহলকে তিনি এই আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রসংঘের ৮০তম বার্ষিক অধিবেশন চলাকালেই রবিবার ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং পরদিন পর্তুগাল এবং তারপর দিন ফ্রান্স, বেলজিয়াম ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা বা স্বীকূতি দিয়েছে। এই নিয়ে মোট ১৬০ দেশ ফিলিস্তিনের স্বধীনতার পক্ষে সিলমোহর দিল। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রস্তাব এলে প্রতিবারই আমেরিকা ভেটো দিয়ে বাতিল করে দিচ্ছে।








