গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৭০ বিলিয়ন ডলার
নতুন পয়গাম, জেনেভা:
রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ যৌথ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইসরাইলের দুই বছরের গণহত্যা ও যুদ্ধের পর গাজা পুনর্গঠনে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। রাষ্ট্রসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের এই উপকূলীয় অঞ্চলটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে কয়েক দশক সময় লেগে যেতে পারে।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান ও স্থল হামলা আপাতত বন্ধ হয়েছে, যা অন্তত ৬৮ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার বিশাল অংশ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষের এই জনবহুল উপত্যকার ৯০ শতাংশেরও বেশি এখন বাস্তুচ্যুত। স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, ঘরবাড়ি ও অফিস মাটির সঙ্গে মিশে গেছে, কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সর্বত্র তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট বিরাজ করছে। ইউএনডিপি-র হিসাবে, গাজার ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এত বেশি যে, তা নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ছড়িয়ে দিলে প্রায় ১৩ মিটার বা ৫০ ফুট উঁচু হবে, অথবা মিশরের গিজায় ১৩টি বিশাল পিরামিড তৈরি করা সম্ভব হবে।
ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই পরিমাণ ছিল ৫৩ বিলিয়ন ডলার। পুরো গাজা জুড়ে ধ্বংস ও ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টন বলেন সংস্থার প্রধান অধিকর্তা জাকো সিলার্স। তাঁর কথায়, গাজা উপত্যকা মেরামতে অন্তত ৭০ বিলিয়ম ডলার প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি ধ্বংস হয়েছে গাজা সিটিতে, যেখানে রাষ্ট্রসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার ‘ইউনোস্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী ৮৩ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি এও জানান, ইতিমধ্যে গাজা থেকে প্রায় ৮১ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নেটপাড়ায় তীর্যক কমেন্টস বলছে, যেসব দেশের সহযোগিতা ও সমর্থনে ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ চালিয়েছে, তারা সবাই মিলে ৫০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিক। কারণ তারাই তো ইসরাইলকে অর্থ সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করেছে। আর বাকি ৫০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিক নেতানিয়াহু সরকার। তাহলে তাদের যুদ্ধ করার শখ চিরতরে ঘুচে যাবে। আর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজা পুনর্গঠনের জন্য তিনি উপসাগরীয় দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সমর্থন চাইবেন এবং দ্রুত প্রকল্প অর্থায়ন নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
যেসব দেশের সহযোগিতা ও সমর্থনে ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ চালিয়েছে, তারা সবাই মিলে ৫০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিক। কারণ তারাই তো ইসরাইলকে অর্থ সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করেছে। আর বাকি ৫০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিক নেতানিয়াহু সরকার। তাহলে তাদের যুদ্ধ করার শখ চিরতরে ঘুচে যাবে। আর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।








