সুদান থেকে গাজা: মৃত্যু মিছিল অব্যহত
ময়ুখ বিশ্বাস
এবার সুদান। নীরবে গণহত্যা চলছে প্রতিদিন। কিন্তু এই গ্রহের আরও একটি ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় নিয়ে চুপ রয়েছে বিশ্ব। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাড়িঘর থেকে উৎখাত হয়েছেন এক কোটিরও বেশি মানুষ।
ভয়াবহ অবস্থা সুদানের দারফুর অঞ্চলের বড় শহর এল-ফাশারের। সেখানকার বাসিন্দারা এখন চরম দুঃস্বপ্নের মধ্যে সর্বহারা অবস্থায় রয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সমর্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) নামে বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের আবার আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত করেছে ইসরাইল, তারা মাসের পর মাস শহরটিকে অবরুদ্ধ রাখার পর শেষ পর্যন্ত সেটি পুরোপুরি দখল করে নেয়। এখন আরএসএফ সুপরিকল্পিতভাবে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করছে। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে নির্বিচারে হত্যা করছে। ফলে এটি কোনো যুদ্ধ নয়। পরিকল্পিত নির্মম গণহত্যা। কিন্তু এর পেছনে কারণ কী? নেপথ্য অভিসন্ধি খুবই সহজ, অংকটা খুবই সরল। ধনী দেশগুলোর বেলাগাম মুনাফা। আকাশচুম্বি লোভ, লালসা। সুদান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদে ভরপুর। সোনা, তেল ও অন্যান্য সম্পদের মূল্য অন্তত ৬০০০ বিলিয়ন ডলার। তাই এই হলোকাস্ট বা জেনোসাইড বা গণহত্যা। পিছনে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা এই দেশটিকে দখল ও লুণ্ঠন করতে চায়। যেমনটা করেছে লিবিয়ায়। এবার নজর সুদান থেকে ভেনেজুয়েলা। সম্পদের কারণেই কয়েক বছর আগে সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে। সেই থেকেই সুদানে আর সুদিন ফেরেনি।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মৃত্যুমিছিল সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে সবার চোখের সামনে। ঢাকঢোল পিটিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিক, স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ এবং আশ্রয়কেন্দ্রেও হামলা নিরন্তর চলছে। ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বুভুক্ষু মানুষের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে পশুপাখির মতো হত্যা করছে ইসরাইল। সবার সামনে টানা দুই বছর ধরে চলছে প্রকাশ্যে গণহত্যা। যাকে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। ওরা লোটার সময় ধর্ম মানে না। তাই তো সংযুক্ত আরব আমিরশাহী আর ইসরাইলে এত দহরম, মহরম।
একদিকে আফ্রিকার সুদানে মানুষ মরছে নীরবে। অন্যদিকে গাজায় নিরীহ ও নিরস্ত্র নারী, শিশু সহ সবাই মরছে সারা বিশ্বের ক্যামেরার সামনে। দুই ভূখণ্ড। দুই নৃশংস যন্ত্রণাদায়ক সংগ্রাম। উভয়েই পিশাচ সাম্রাজ্যবাদের লালসার শিকার। কোথাও তা ইসলাম মৌলবাদের নামে, আবার কোথাও যায়নবাদী চরমপন্থী ইহুদিবাদ ও ইসলামভীতির আবরণে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। আসলে সব মৌলবাদ বেড়ে ওঠে সাম্রাজ্যবাদীদের মদতে। মানুষকে ভাগ করে লুটের লক্ষ্যে। কিন্তু আমরা নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মৌনীবাবা সেজে থাকতে পারি না। এই নীরবতা ভাঙুন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে গর্জে উঠুন। এসব কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পয়গাম সবার কাছে পৌঁছে দিন। যে যার মতো করে সাধ্যমতো প্রতিবাদ করুন। এসব রোমহর্ষক ধ্বংস ও গণহত্যাযজ্ঞ দেখেও নীরবতা পালন করা মানে আমরা আর মনুষ্য পদবাচ্য থাকতে পারি না।








