ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব ঘুচে গেছে শুল্ক-যুদ্ধের কারণ দর্শালেন রঘুরাম রাজন
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর:
মার্কিন শুল্ক-যুদ্ধের জেরে শেয়ার বাজারে বুধবার মধ্যরাত থেকেই বিরাট ধস নেমেছে। দেশজুড়ে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। কিন্তু কেন ভারতকে এই কঠিন শাস্তি দিলেন ট্রাম্প? এ বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর, বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদ ড. রঘুরাম রাজন বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের উপর দু-দফায় যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন, তার নেপথ্যে বিরাট কৌশল রয়েছে। বিষয়টা শুধুমাত্র ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যে সীমিত নয়। ট্রাম্পের মনে হয়েছে, অন্য দেশগুলি আমেরিকার উদারতার সুযোগ নিচ্ছে। মার্কিন নাগরিকরা উপকৃত হবে — এমন কম দামে পণ্য রফতানি করছে না কেউ।
বাণিজ্যক্ষেত্রে কে কত বড় খেলোয়াড়, তা শুল্কের মাধ্যমেই ঠিক হয় বলে মনে করেন ট্রাম্প। রাজনের মতে, ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর আর একটি কারণ হল, শুল্ককে কেবলমাত্র বাণিজ্যনীতির অংশ মনে করেন না ট্রাম্প। বরং বহিরাগতদের থেকে কর আদায়ের মাধ্যম বলে গণ্য করেন। এই পথে আসলে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে চাইছেন ট্রাম্প। কারণ, সম্প্রতি দেশীয় ক্ষেত্রে বেশ কিছু ক্ষেত্রে কর ছাড় দিয়েছেন ট্রাম্প। তাই বিদেশ থেকে চড়া শুল্ক আদায় করে সেই ঘাটতি পোষাতে চাইছেন। কিন্তু রাশিয়ার থেকে অনেক দেশই তেল কেনে। সেই তালিকায় রয়েছে ইউরোপ থেকে চিনও। কিন্তু বেছে বেছে শুধু ভারতের প্রতি ট্রাম্পের আচরণ কঠোর কেন? জবাবে রঘুরাম বলেন, মোদির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক যে ভেঙে গিয়েছে, তা স্পষ্ট।
ভারতের প্রতি ট্রাম্পের এই আচরণ কি শুধুমাত্র রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য? রাজন বলেন, বিষয়টি ন্যায়-অন্যায়ের ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছে। এখন যে পরিস্থিতি, তাতে শক্তি প্রদর্শন চলছে। ট্রাম্পের ধারণা ভারত নিয়ম মানছে না। তাই তিনি আপাতত জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন। এই টানাপড়েনের মধ্যে লাগাতার ভারতকে আক্রমণ করে চলেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের অন্যতম সহযোগী পিচার নেভারো ভারতকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। চিন এবং রাশিয়ার সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়ে ভারত আসলে ‘স্বৈরাচারীর শয্যাসঙ্গী’ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রঘুরাম রাজনের মতে, উপর মহলের অনুমতি ছাড়া কেউ এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। অর্থাৎ তাঁকে সমর্থন জোগানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কী করণীয় — সে বিষয়ে রঘুরাম বলেন, রাশিয়ার থেকে তেল কিনে আসলে কার লাভ হচ্ছে, আর চড়া শুল্কে কার ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত দিল্লির। আসলে তৈল শোধনাগারের বাড়তি লাভ হচ্ছে। তাদের ওই মুনাফা থেকে আমরা কি কিছু পেতে পারি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিকারীদের কিছু সুরাহা হয়? রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্যই তো তাঁদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে!
এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়, সে বিষয়ে ড. রাজন বলেন, ভারতের জন্য এটা একটা শিক্ষা। কোন একটি দেশের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে চলবে না। পূর্ব দিকে তাকাতে হবে, ইউরোপ, আফ্রিকার দিকে তাকাতে হবে, পাশাপাশি সম্পর্ক থাক আমেরিকার সঙ্গেও। সংস্কার প্রয়োজন, যাতে বৃদ্ধির হার হয় ৮-৮.৫ শতাংশ, যুব সমাজের কর্মসংস্থান হয়।
নয়াদিল্লির দাবি, কার কাছ থেকে কী কিনব, তা ঠিক করার অধিকার রয়েছে ভারতের। সার্বভৌমত্বের উপর কেউ ছড়ি ঘোরাতে পারে না। কিন্তু রাজনের মতে, এক্ষেত্রে সার্বভৌমত্ব, ন্যায়-অন্যায়ের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকলেও, তা মূল সমস্যা নয়। ক্ষমতা প্রদর্শনই এখানে মূল বিষয়।
‘








