৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি গৌড়বঙ্গের ৩ জেলায়
গোলাম আহম্মেদ চিশতী, নতুন পয়গাম, মালদা, ১৯ অগাস্ট:
ক্রিপ্টো কারেন্সির এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়ে দম্পতির ৫০ কোটি টাকার জালিয়াতি গৌড়বঙ্গের ৩ জেলায়। আত্মগোপন করে থাকা ওই দম্পতিকে মঙ্গলবার মালদার গাজোল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে হরিরামপুর থানার পুলিশ।
ধৃত ওই দম্পতির নাম কবির মদন দাস (৪২) ও রিঙ্কু সরকার (৩৭)। তাঁদের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থানার অন্তর্গত মুস্কিপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ অগাস্ট ওই দম্পতির বাড়িতে মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এলাকায় শতাধিক প্রতারিত মানুষ। সেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় হরিরামপুর থানার পুলিশ। সেদিনই স্থানীয় এক প্রতারিত মহিলা ওই দম্পতি ও তাদের ছেলে দেবাশিস দাসের বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ জানান। ঘটনার দিন ওই দম্পতিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া না গেলেও অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দেবাশিস দাসকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, এই কেলেঙ্কারির অর্থের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা।
এক প্রতারিত মহিলা হরিরামপুর থানার দায়ের করা পুলিশি অভিযোগে জানান, কবির মদন দাস নিজেকে ক্রিপ্টো কারেন্সির এজেন্ট বলে পরিচয় দেয়। সঙ্গে অল ইন্ডিয়া অ্যান্টি ক্রাইম ব্যুরোর পরিচয়পত্র দেখিয়ে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগের প্রলোভন দেয়। ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে ১৬ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও বলে কবির। ২০২৪ সালে ওই মহিলা কয়েক দফায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। টাকা বিনিয়োগের পর ১ মাসে ১ লক্ষ টাকাও পান ওই প্রতারিত মহিলা। কিন্তু তারপর থেকে কবিরকে ফোনে পাওয়া যেত না। তাদের বাড়িতেও কাউকে দেখা যেত না। গত ১ অগাস্ট বিনিয়োগকারীরা কবিরের বাড়িতে তাদের ছেলে ও বউমাকে দেখতে পান। নিমেষে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শতাধিক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমান। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও।
ঘটনার পর কবিরের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হলেও কবির ও তার স্ত্রীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গতকাল রাতে হরিরামপুর থানার পুলিশ জানতে পারে, মালদা জেলার গাজোল থানা এলাকায় ওই দম্পতি লুকিয়ে রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই গাজোলে থানা দেয় হরিরামপুর থানার পুলিশ। ওই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কবির মদন দাস ও তার স্ত্রী রিঙ্কু সরকার কবির দাসকে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে কবির দাস দিল্লিতে রিক্সা চালাত। বর্তমানে কলকাতায় তার ফ্ল্যাট রয়েছে, গাজোল এলাকায় কয়েক একর জমিও রয়েছে তার নামে। ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগের এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে হরিরামপুর থানার পুলিশ।








