বাঁকুড়ার নন্দনপুরে কান্য কুব্জ সমাজের বিজয়া সম্মেলনে উৎসবের রেশ
সঞ্জয় মণ্ডল, নতুন পয়গাম, বাঁকুড়া:
কান্য কুব্জ সমাজের প্রথম বিজয়া সম্মেলনকে ঘিরে বাঁকুড়ার নন্দনপুর গ্রামে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কান্য কুব্জ সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে এই মিলনমেলায় যোগ দেন, যা রূপ নেয় এক সামাজিক ঐক্যের উৎসবে।
বাংলার বিভিন্ন জেলার মতো বাঁকুড়াতেও বহু গ্রামে বসবাস করেন কান্য কুব্জ সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের পূর্বপুরুষরা বহু শতাব্দী আগে উত্তর প্রদেশ থেকে বাংলায় আগমন করেন— পাল ও সেন যুগ থেকেই এই ইতিহাসের সূত্রপাত। দীর্ঘকাল বাংলার মাটিতে বসবাস করতে করতে তাঁরা আজ বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজজীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছেন।
তবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জেলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও, এতদিন পর্যন্ত জেলাস্তরে তাঁরা সংগঠিতভাবে একত্র হননি। একসময় আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন তাঁদের জীবনেও প্রভাব ফেলেছে।
এই প্রেক্ষিতেই বাঁকুড়া জেলার কয়েকজন উদারমনস্ক ও সমাজচিন্তক ব্যক্তি “বাঁকুড়া জেলা কান্য কুব্জ সমাজ” নামে একটি সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম পথপ্রদর্শক ছিলেন সমাজসেবী গৌতম মিশ্র— সকলের প্রিয় “শ্যামদা”।
খুব অল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়েই এই প্রথম বিজয়া সম্মেলনে জেলার নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ছয় শতাধিক পুরুষ ও মহিলা অংশগ্রহণ করেন। এটি ছিল সংগঠনের দ্বিতীয় সাধারণ সভা এবং প্রথম বিজয়া সম্মেলন।
সম্মেলনের মঞ্চে বক্তারা সমাজের ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গৌতম মিশ্র জানান, “একটা ইতিবাচক ভাবনা থেকেই আমরা এই সংগঠন শুরু করেছি। আগামী দিনে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে কান্য কুব্জ সমাজের পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো— শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহায়তার হাত বাড়ানো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু নিজেদের সমাজ নয়, বৃহত্তর সমাজের উন্নয়ন ও মঙ্গলকেও সমান গুরুত্ব দিতে চাই। একতার ভিতর দিয়েই সমাজের শক্তি বাড়ে, আর সেই শক্তিই আমাদের এগিয়ে নেবে।”
উৎসব, ঐক্য আর সমাজসেবার অঙ্গীকারে ভরপুর এই বিজয়া সম্মেলন যেন বাঁকুড়ার কান্য কুব্জ সমাজের এক নতুন সূচনা।








