ঝড়খালিতে বাঘের আতঙ্ক, লোকালয় সংলগ্ন জঙ্গলে বসানো হল খাঁচা
নতুন পয়গাম, হাসান লস্কর, কুলতলী: সুন্দরবনের ঝড়খালি এলাকায় ফের বাঘের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকালয়ে বাঘ ঢুকে পড়ার আশঙ্কায় বনদপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বাঘ ধরার খাঁচা বসিয়েছে এবং তাতে ছাগলের টোপ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভোরে প্রতিদিনের মতো মৎস্যজীবীরা নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার সময় ঝড়খালি লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় নরম মাটিতে বাঘের টাটকা পায়ের ছাপ দেখতে পান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরকে জানানো হলে কুলতলির কুইক রেসপন্স টিমসহ বনকর্মীরা দ্রুত এলাকায় পৌঁছান। বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘ যাতে কোনোভাবেই লোকালয়ে ঢুকে না পড়ে, সে জন্য জঙ্গল সংলগ্ন নদীপাড়ের গ্রামাঞ্চল প্রথমে নাইলনের ফেন্সিং নেট দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর জঙ্গলের ভেতরে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে তার সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাতে বাঘ ধরার খাঁচা বসানো হয় এবং তাতে ছাগলের টোপ দেওয়া হয়েছে। সারারাত বনকর্মীদের পাশাপাশি টাইগার রেসকিউ টিমের সদস্যদের পাহারা দিতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ঝড়খালি এলাকার হেড়োভাঙা নদীর এক পারে মানুষের বসবাস, অপর পারে সুন্দরবনের গহীন অরণ্য– যা বাঘের স্বাভাবিক আবাসস্থল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে বাঘটি হেড়োভাঙা নদী সাঁতরে লোকালয়ের টেকনো চত্বর সংলগ্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। সকালে বাঘের টাটকা পায়ের ছাপ নজরে আসতেই দ্রুত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, বাঘটির গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সম্ভবত বাঘটি এখনও জঙ্গলের মধ্যেই অবস্থান করছে এবং স্বাভাবিকভাবে গভীর অরণ্যে ফিরে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি শুরু হয়েছে। পরিবেশ কর্মী প্রবীর মিশ্র বিপ্লব ও কৃষ্ণেন্দু তিয়াড়িরা জানান, নিয়মিত পেট্রোলিং ও বনকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এ বছর লোকালয়ে বাঘ ঢোকার ঘটনা আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। তাঁদের মতে, গত বছরে প্রায় ৩৮ বার বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটলেও এ বছর এখনও পর্যন্ত মাত্র তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে। শীতের শেষে মাঠে পাকা ধান না থাকলেও সুন্দরবন লাগোয়া গ্রামগুলিতে ফের বাঘের উপস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে বনদপ্তরের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।








