সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা
নতুন পয়গাম, এম.রহমান, কল্যানী: এরকমভাবেও হারা যায়! সত্যি বাংলা দলকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বেশ মসৃনভাবে এগোচ্ছিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল। প্রথম ইনিংসে ২৬ রানের লিডও পায়। অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, ফাইনালে বাংলার জায়গা মোটমুটি পাকা। কিন্তু কোথায় কী! চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে ভেন্টিলেশনে বঙ্গ-ব্রিগেড। মঙ্গলবার দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে গেলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। অর্থাৎ, জয়ের জন্য ভূস্বর্গের দলের সামনে টার্গেট ১২৬ রানের। যা তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে জন্মু ও কাশ্মীরের স্কোর ২ উইকেট খুইয়ে ৪৩। জয়ের জন্য আর প্রয়োজন ৮৩ রান। এখন বড় প্রশ্ন, এই পুরানো রোগ কবে সারবে ‘কাগুজে বাঘ’ বাংলার? নক-আউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর কবে বুক চিতিয়ে খেলবে? প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে একশো রান তুলতে না পারাটা লজ্জা ছাড়া আর কিছু নয়। পিচে কোনও জুজু ছিল না। মঙ্গলবার সকালেই তো জম্মু ও কাশ্মীরের আকিব নবি ও যুধবীর সিং নবম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়েছেন। এখনও অবশ্য আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বুধবার সকালে সামিরা মিরাকল কিছু করতে পারেন কি না সেটাই দেখার। তবে তা হলেও এদিনের ব্যর্থতা কোনওভাবেই ঢাকা যাবে না।
প্রথম ইনিংসে বাংলার ৩২৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু ও কাশ্মীরের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৯৮। কিন্তু মঙ্গলবার বল হাতে মহম্মদ সামি রীতিমতো আগুন ঝরালেন। তাঁর দাপটে ২৩১ রানে ৮ উইকেট খোয়ায় অ্যাওয়ে দল। কিন্তু নবম উইকেটে আকিব (৪২) ও যুধবীরের (৩৩) ৬৪ রানের জুটিই অক্সিজেন জোগাল ভূস্বর্গের টিমকে। যদিও শেষ পর্যন্ত লিড পায় বাংলা। সামি রনজিতে কেরিয়ার বেস্ট, ৯০ রানের বিনিময়ে ৮ উইকেটে নিয়েছেন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাংলা। সুদীপ চ্যাটার্জিকে তো খাতাই খুলতে দেননি আকিব। পরের ওভারে তাঁর শিকার অভিমন্যু ঈশ্বরণ (৫)। বাংলার অধিনায়ক রনজি ট্রফির নক-আউটে শেষ কবে বড় ইনিংস খেলেছেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান শাহবাজের (২৪)।তবে জম্মু-কাশ্মীর যদি বাংলার মতো হারাকিরি না করে,তাহলে বাংলা নিশ্চিত বিদায় নিচ্ছে।








