সুদীপের ত্রিশত হাতছাড়া হলেও, শামির ঝড়ে সেমিফাইনালে বাংলা
নতুন পয়গাম, এম.রহমান, কল্যাণী: বাংলাকে টেনে তুলেছেন খাদের কিনারা থেকে।প্রথমে সেঞ্চুরি,তারপর ডবল সেঞ্চুরি কিন্তু ত্রিপল সেঞ্চুরিটা অধরা রয়ে গেল। সোমবার কল্যাণীতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনালে ত্রিশতরানের দোরগোড়ায় এসেও ফিরতে হল সুদীপ ঘরামিকে। লেগস্পিনার সেখ রশিদের ডেলিভারি একটু নীচু হয়ে আঘাত হানল স্টাম্পে। ২৯৯ রানে বোল্ড ২৬ বছর বয়সি, যা তাঁকে ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে এক সারিতে বসাল ঠিকই, তবে আক্ষেপটা রেখে দিল আজীবনের জন্য। ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ২৯৯ রানে নট আউট ছিলেন ব্র্যাডম্যান। ১৯৮৮-৮৯ মরশুমে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে রনজিতে মহারাষ্ট্রের শান্তনু সুগওয়েকরও অপরাজিত ২৯৯ করেন।
ম্যারাথন ইনিংসে সুদীপ খেলেছেন ৫৯৬টি বল, যা ভারতীয়দের মধ্যে ষষ্ঠ দীর্ঘতম। বাংলার ব্যাটারদের মধ্যে তা রেকর্ড। ৩১টি চার ও ছয়টি ছক্কায় ইনিংস সাজালেন তিনি। তাঁর মতোই মাইলস্টোনের ঠিক আগে থামলেন হাবিব গান্ধী (৯৫)। সুদীপ ও হাবিবের সপ্তম উইকেট জুটিতে ওঠে ২২১ রান। শেষদিকে ধুন্ধুমার চালালেন মহম্মদ শামি (৩৩ বলে ৫৩)। মারলেন সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। বাংলা শেষ পর্যন্ত তোলে ৬২৯। লিড মেলে ৩৩৪ রানের। বাংলার শেষ চারের টিকিট কার্যত নিশ্চিত। চতুর্থ দিনের শেষে তিন উইকেটে ৬৪ তুলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ। আকাশ দীপ, সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, শাহবাজ আহমেদ ভাগ করে নেন উইকেট।
সেমি-ফাইনালে উঠলে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের প্রতিপক্ষ হতে চলেছে জম্মু ও কাশ্মীর। মধ্যপ্রদেশকে ৫৬ রানে হারিয়ে রনজির ইতিহাসে এই প্রথমবার শেষ চারে উঠেছে তারা। সেক্ষেত্রে ঘরের মাঠে কল্যাণীতে খেলার সুযোগও মিলবে। রবিবার অন্য সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি উত্তরাখণ্ড ও কর্ণাটক। কোয়ার্টার ফাইনালে লোকেশ রাহুলের (১৩০) শতরানের সুবাদে মুম্বইকে চার উইকেটে হারায় কর্ণাটক। আর ঝাড়খণ্ডকে ইনিংসে ও ৬ রানে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠে উত্তরাখণ্ড।
তবে বাংলার খেলায় এদিন শামি বার্তা দিলেন- ব্যাটিংয়ও সাবলীল।মাঠে উপস্থিত আর.পি. সিং কি উপলব্ধি করলেন শামির গুরুত্ব!








