জয়ের মাঝেও উদ্বেগের নাম বোলিং আর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ
স্টাফ রিপোর্টার, নতুন পয়গাম:
পিচ যতই ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হোক,সাড়ে তিনশো রান কি নিরাপদ নয়?
উত্তর-অবশ্যই জয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু সেই রান বোর্ডে থাকার পরও ভারতীয় বোলাররা শেষ ওভার পর্যন্ত উদ্বেগে প্রোটিয়ারা যেভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালাচ্ছিলেন তাতে সাড়ে তিনশোর টার্গেটকেও নিরাপদ মনে হচ্ছিল না। বরং টেনশন সঙ্গী ছিল আগাগোড়া। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল সেকথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। মার্কো জানসেন, করবিন বশরা পর্যন্ত তুলে তুলে মারছিলেন।
এদিকে সোমবার দ্বিতীয় ওডিআই খেলার জন্য রায়পুরে পৌঁছলো দল। সেখানে বিরাটদের ঘিরে তুমুল উন্মাদনা দেখা যায়। বুধবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নামবে ভারত। তবে তার জন্য বোলারদের থেকে উন্নততর পারফরম্যান্স জরুরি।
কিন্তু বোলিংয়ের পাশাপাশি চিন্তার আর একটা নাম ড্রেসিরুম।
ভারতীয় টিমের অন্দরমহলেও কম টেনশনের বাতাবরণ নেই। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার সম্পর্কের চাপান উতোর নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। শোনা যাচ্ছে, ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিয়ে ভিকে সটান চলে যান ড্রেসিং-রুমে। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা কোচের দিকে তাকানওনি। বরং হাতের মোবাইলে ফোকাস ছিল তাঁর। এরপর হোটেলেও সেলিব্রেশনে যোগ দিতে দেখা যায়নি বিরাটকে। লবিতে রাখা ছিল কেক। ক্যাপ্টেন রাহুল এগিয়ে এসে তা কাটেন। পাশেই রোহিতের সঙ্গে কথা বলায় মগ্ন দেখায় গম্ভীরকে। এই সময়ই বিরাটকে দেখা যায় হাততালি দিয়ে সোজা লিফটের দিকে চলে যেতে। কেক কাটার জন্য ডাকা হলেও নেতিবাচক ভঙ্গিতে হাত নাড়েন তিনি। এই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাহলে কি ড্রেসিং-রুমের পরিবেশে এখনও স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন না বিরাট, প্রশ্ন উঠছে।
ভারতের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক অবশ্য কোহলিকে ঘিরে গড়ে ওঠা অনিশ্চয়তাকে ওড়াতে চাইছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘এই প্রশ্নটা উঠছে কেন? এত ভালো ব্যাট করছে। কেন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে হবে? ওর যা ফিটনেস, তাতে কোনও ব্যাপারেই প্রশ্নচিহ্ন নেই। সত্যি বলতে রোহিত ও কোহলি, দু’জনেই ব্রিলিয়ান্ট ফর্মে। আর ২০২৭ বিশ্বকাপ নিয়ে এখনও আমরা কেউ কথাই বলছি না।’
ভারতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অবশ্য সরব নেটদুনিয়া। ঋতুরাজ গায়কোয়াড়কে চার নম্বরে কেন নামানো হল, সোচ্চার অনেকেই। রাঁচিতে রবিবার ১৬ মাস পর ভারতীয় জার্সিতে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু এর আগে ৮৬টি লিস্ট এ ইনিংসে কখনও চারে নামেননি ঋতুরাজ। এমনকী, তিনেও নেমেছেন মাত্র পাঁচবার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওপেন করেছেন। তাই চার নম্বরে ঋতুরাজের নামা গম্ভীরের আরও এক খামখেয়ালিপনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন সুন্দরের পর ছয়ে নামেন ক্যাপ্টেন লোকেশ রাহুল। এটা নিয়ে কমেন্ট্রিতে প্রশ্ন তোলেন সুনীল গাভাসকরও। সদ্যসমাপ্ত টেস্ট সিরিজে ইডেনে তিন নম্বরে খেলতে দেখা গিয়েছে সুন্দরকে। গুয়াহাটিতে পরের টেস্টে সেই স্লটে নামেন সাই সুদর্শন। সুন্দরের জায়গা হয় আট নম্বরে। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে এমন ছেলেখেলা ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সবমিলিয়ে একটা হার আবার গম্ভীরের ক্যারিয়ারকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে।








