ফেল কড়ি মাখো তেল নীতি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালেও এবার টাকা লাগবে
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১৯ অক্টোবর:
সরকারি হাসপাতালেও এখন আর সবকিছু ফ্রি’তে মিলবে না। সরকারি হাসপাতালে বেড ভাড়া নেই, কম টাকায় চিকিৎসা হয়, আইসিইউ ভাড়া কম — এসব এখন গল্প। সম্প্রতি এসএসকেএম-এর নতুন উডবার্ণ ওয়ার্ডের এমনই নামকরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। রাজ্যের একমাত্র মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের নতুন উডবার্ণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা করাতে গেলে টাকা খরচ করতে হবে সাধারণ মানুষকে। গত মাসে একঝাঁক নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করে সেদিনই মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গল কেবিনের ভাড়া ৫ হাজার, সিঙ্গল স্যুট ৮ হাজার, এইচডিইউ শয্যা ১২ হাজার এবং আইটিইউ শয্যা ১৫ হাজার। এসব অংক এক দিনের জন্য। সেহেতু একজন রোগী দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ভর্তি থাকলে সরকারি হাসপাতালের বিল দেখে চোখ কপালে উঠে যাবে।
স্বাস্থ্য ভবনের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে এখানে মিলবে ওপিডি পরিষেবা, যেখানে চিকিৎসক দেখাতে দিতে হবে ৩৫০ টাকা ফি, এর মধ্যে ৩০০ টাকা ডাক্তার পাবেন, আর ৫০ টাকা যাবে হাসপাতালের তহবিলে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সাফাই হল, এই পরিষেবা খরচ বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক সস্তা।
রাজ্য সরকারকে নিশানা করে এসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক ডা. মানস গুমটা বলেন, ‘নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। এমনিতেই দায় এড়াতে সরকার বিমা কোম্পানির হাতে জনগণের স্বাস্থ্যকে তুলে দিয়েছে এবং কর্পোরেট ব্যবসায়ীরাই এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক। একদিকে গোটা রাজ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যানার, হোর্ডিং ঝুলছে; অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য ঘটিবাটি বেচে মানুষের নিঃস্ব করার ফাঁদ পাতা হয়েছে। তাঁর্যক প্রশ্ন, হাসপাতালের ভিতরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সুপার ফাইভস্টার বা মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে কেন?
পিজি হাসপাতাল রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎকর্ষ কেন্দ্রে। প্রতিদিন ওখানে বেড না পেয়ে পিংপং বলের মতো মানুষকে ঘুরে বেড়াতে হয়। তাঁদের জন্য ব্যবস্থা বা সুযোগ সুবিধা না বাড়িয়ে সুপার ফাইভস্টার হাসপাতাল কেন? আর নতুন নিয়োগ না করে, একই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে বহুমুখী পরিষেবা চালাতে গেলে গোলমাল তো হবেই। তেলা মাথায় তেল দেওয়া নয়, গরিব প্রান্তিক মানুষের প্রতিদিনের চিকিৎসার খরচ কমানো, সর্বস্তরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জীবনদায়ী ওষুধের নিরিবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও পরিষেবা অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ১০ তলা পিজি হাসপাতালের এই ভবনে রয়েছে ১৩১টি আধুনিক কেবিন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, অত্যাধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত এই ওয়ার্ডের সাজসজ্জা দেখে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে তুলনা টানা শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই অত্যাধুনিক পরিকাঠামো ভাল ভাল প্রাইভেট হাসপাতালকেও টেক্কা দেবে। কিন্তু যেখানে পদে পদে টাকার প্রশ্ন, সেখানে কীসের নিরিখে টেক্কা দেবে, এ প্রশ্ন করছেন ডাক্তারদের বিভিন্ন সংগঠন।








