ইনসাফ পেল বাংলাদেশের জনগণ: ইউনূস
নতুন পয়গাম, ঢাকা:
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড এক ঐতিহাসিক রায়। এই রায়ের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। রায়-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, উত্তেজক আচরণ, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
সোমবার রায়ের পরেই প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই রায়কে ঘিরে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন কেউ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে- এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, সরকার এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সবাইকে সতর্ক করেছে। যেকোনো ধরনের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ বাংলাদেশের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা সারাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। এই রায় ও সাজা একটি মৌলিক নীতিকে পুনঃনিশ্চিত করেছে। সেটা হল, যত ক্ষমতাবানই হোক, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ এবং শোকার্ত পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এমন ন্যায়বিচার এনে দিল। আমরা এমন এক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যখন দীর্ঘ বছরের নিপীড়নে ভেঙে যাওয়া গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের প্রয়োজন। যে তরুণ, যুবক ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তাদের কণ্ঠস্বর – এগুলো আমাদের আইনকেই শুধু লঙ্ঘন করেনি, বরং সরকার ও নাগরিকের মাঝে থাকা মৌলিক বন্ধনকেও ধ্বংস করেছে। এ ধরনের কাজ বাংলাদেশের মানুষের অন্তর্গত মূল্যবোধকে আঘাত করেছে: মর্যাদা, স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার।
গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘তারা সংখ্যা ছিল না, ছিল ছাত্র, ছিল বাবা-মা, ছিল নাগরিক। জবানবন্দিতে উঠে আসা মর্মান্তিক ঘটনা, বিশেষ করে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার থেকেও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশের বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজকের এই রায় প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনবে।’
বিবৃতির শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সাথে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করবে। আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাংলাদেশে শুধু নামেমাত্র টিকে থাকবে না; এটি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সুদৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।








