চার দশকের অপেক্ষার অবসান: গান্দ্রা নদীর উপর সেতু নির্মাণের শিলান্যাস
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, ধূপগুড়িঃ
ধূপগুড়ি মান্তাপাড়ার বাসিন্দাদের ৪০ বছরের দাবির অবসান, গান্দ্রা নদীর উপর সেতুর শিলান্যাসের মধ্য দিয়ে শুরু হলো সেতু তৈরির কাজ।
ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি মান্তাপাড়া এলাকায় গান্দ্রা নদীর উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়েছে। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এলাকার মানুষের দাবি ছিল নদীর উপর একটি পাকা সেতু নির্মাণের। বেহাল অবস্থায় থাকা কাঠের সেতুর কারণে চারটি গ্রামের প্রায় দশ হাজারের বেশি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল।
জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পঁচিশ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধূপগুড়ি মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা, ধূপগুড়ি বিধানসভার বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরজাহান বেগম, জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সীমা চৌধুরী, ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অর্চনা সূত্রধর এবং বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফনীন্দ্রনাথ রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।
শিলান্যাসের পর এলাকায় খুশির হাওয়া বইছে। মান্তাপাড়ার ১৫/১৬৪ নম্বর বুথ এলাকায় মানুষ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুরেন্দ্রনাথ রায় জানান, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল একটি স্থায়ী সেতু। কাঠের সেতুর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন। পাকা সেতু হলে সুবিধা আরও বেশি মানুষের পৌঁছাবে।”
বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, “চার দশকের দাবি পূরণ হচ্ছে। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে মানুষের উৎসাহ দেখে বোঝা যায় তারা কতটা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করেছেন। খুব দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু হবে। এলাকার মানুষ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা সেতুর সুবিধা পাবেন।”
জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুরজাহান বেগম বলেন, “এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেতুর শিলান্যাস করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। নির্মাণ শেষে চারটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ভোগ কমবে। আমরা চাই মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিদিনের যাতায়াত করতে পারে।”
সেতু নির্মাণের ফলে বর্ষার সময় নদী পারাপারে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা এলাকার মানুষ সুবিধা পাবেন। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর খুশির আবহ ছড়িয়েছে মান্তাপাড়া সহ আশেপাশের এলাকায়।








