আলু তোলার আগেই হাতির তান্ডব, নষ্ট আলুর জমি, বিপাকে চাষিরা
তৌসিফ আহম্মেদ, নতুন পয়গাম, বাঁকুড়া:
দলমায় ফেরার পথে বিঘের পর বিঘে আলু জমি মাড়িয়ে দিল হাতির দল। বৃহস্পতিবার রাতে সোনামুখীর জঙ্গল পেরিয়ে ২৩ থেকে ২৫ টি হাতি ঢুকে পড়ে রাধানগর রেঞ্জের প্রকাশ ও উলিয়াড়া এলাকায়। সেখানে বিঘের পর বিঘে আলুর জমি মাড়িয়ে দেয় হাতির দল। আলু তোলার ঠিক আগে হাতির দলের তান্ডবে বিঘের পর বিঘে জমির আলু এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে এলাকার চাষিদের।
প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও অগাস্ট মাসে খাবারের খোঁজে পশ্চিম মেদিনীপুরের সীমানা পেরিয়ে দফায় দফায় বাঁকুড়ায় প্রবেশ করে হাতির দল। ওই মাসেই প্রায় ৬৩ টি হাতি ঢুকে পড়ে বাঁকুড়ায়। বিষ্ণুপুর, সোনামুখী ও বেলিয়াতোড়ের জঙ্গল পেরিয়ে হাতির দল সটান হাজির হয় বড়জোড়ার পাবয়ার জঙ্গলে। সেখানে প্রায় ৪ মাস কাটিয়ে দিন দুই আগে হাতির দল ফের ফিরতে শুরু করে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে। ফেরার পথে গতকাল রাতে ২৩ থেকে ২৫ টি হাতির দল সোনামুখীর জঙ্গল পেরিয়ে হাতির দলটি ঢুকে পড়ে রাধানগর রেঞ্জের প্রকাশ ও উলিয়াড়া গ্রাম লাগোয়া বিস্তীর্ণ আলুর জমিতে। বিঘের পর বিঘে আলুর জমিতে রাতভর তান্ডব চালায় হাতির দলটি। আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পোখরাজ আলু জমি থেকে তুলতেন এলাকার চাষিরা। তার ঠিক আগেই এভাবে বিঘের পর বিঘে জমির আলু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় মাথায় হাত চাষিদের। ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের দাবি বিঘে প্রতি আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। সমবায় ও স্থানীয় মহাজনদের কাছে ঋণ নিয়ে সেই টাকা জোগাড় করেছিলেন চাষিরা। পোখরাজ আলুর ফলনও হয়েছিল ভালো। কিন্তু ফসল তোলার ঠিক আগে এভাবে হাতির দলের তান্ডবে বিঘের পর বিঘে আলু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় কীভাবে এখন সেই ঋণ শোধ করবেন তা নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।








