পোস্টাল ব্যালট গণনায় বদল নির্বাচন কমিশনের, ফলাফল ঘোষণা বিলম্বের আশঙ্কা
জাতীয় ডেস্ক, নতুন দিল্লী
নতুন পয়গাম: ২৬ সেপ্টেম্বর
নতুন বিধি অনুযায়ী এবার থেকে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) গণনার আগে অবশ্যই পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা সম্পূর্ণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের এই পরিবর্তিত নিয়ম আগামী বিহার বিধানসভা ভোটে কার্যকর হবে। এর ফলে নির্বাচনী দিন শেষের দিকে ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শেষ দুই রাউন্ডের আগে ইভিএমের গণনা স্থগিত করা হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা শেষ হচ্ছে না, ততক্ষণ ইভিএমের বাকি ভোট গণনা শুরু হবে না। কমিশনের দাবি, এই নিয়মের লক্ষ্য ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের অভিযোগ না ওঠা।
এবার একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও তা ধরা পড়বে। কমিশন বিশেষ একটি সফ্টওয়্যার তৈরি করেছে যা একই রাজ্য বা ভিন্ন রাজ্যে একজন ব্যক্তির একাধিক ভোটার কার্ড থাকলে তা শনাক্ত করবে। একই সঙ্গে নামের সঙ্গে আধার, জন্মনিবন্ধন ও ফোন নম্বর মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানো হবে। কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী, ভোটারকে শুধুমাত্র একটি স্থানে নাম রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী একাধিক স্থানে নাম থাকা দণ্ডনীয়, কিন্তু এর আগে অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি দেখা যেত। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নতুন নিয়মের ফলে ভোট গণনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোস্টাল ব্যালট গণনায় সময় বেশি লাগে। ফলে ইভিএম গণনা শেষে নির্বাচনী এজেন্টদের ধৈর্য্যচূতি ঘটতে পারে। এতে ফলাফল ঘোষণা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণত সকাল ৮টায় পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে, আর ইভিএমের ভোট গণনা শুরু হবে সাড়ে ৮টায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোট নেওয়া শুরু হওয়ায় পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দিন দিন ভোট গণনায় সময় কিছুটা বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ভোট গণনায় আরও স্বচ্ছতা আনা। পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ হওয়ার পরে ইভিএম গণনা শুরু হওয়ায় কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠার সম্ভাবনা কমবে। পাশাপাশি কমিশন আশা করছে, ভোট গণনায় এই ধরণের উদ্যোগ ভবিষ্যতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করবে।
নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিশেষ তৎপরতা (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াতেই এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটার তালিকা যাচাই এবং একাধিক স্থানে নাম থাকা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও নিয়মের লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, তবুও নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচনী দিন ভোটার ও এজেন্টদের ধৈর্য পরীক্ষা হবে। তবে কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, গণনা প্রক্রিয়ায় যে কোনও ধরণের অসঙ্গতি বা রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এই পরিবর্তন আগামী ভোটে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং ভোট গণনার প্রতি আস্থা ধরে রাখবে।








