নৈশব্দের দাবিতে পথে প্রবীণরা, বেআইনি বাজি ও ডিজে বন্ধের আর্জি
নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম, শ্রীরামপুর:
বেআইনি বাজি ও ডিজে বক্সের তাণ্ডব থামাতে আবারও পথে নামলেন হুগলি জেলার প্রবীণ নাগরিকরা। ১৯ সেপ্টেম্বর বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের উদ্যোগে শ্রীরামপুরে একটি নীরব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘নৈশব্দের অধিকার’-কে সম্মান জানিয়ে কোনো মাইক ছাড়াই এই জমায়েতে প্রবীণরা হাতে হাতে সচেতনতার লিফলেট বিলি করেন ও বুকে ঝুলিয়ে নেন বাজি ও ডিজে বিরোধী পোস্টার।
প্রবীণদের অভিযোগ, বেআইনি বাজি ও ডিজে বক্সের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ, এমনকি প্রাণী-পক্ষীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ ও শব্দদূষণের মারাত্মক প্রভাবের পাশাপাশি বাজি কারখানার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন—আইন থাকলেও তার প্রয়োগ কোথায়?
প্রবীণ নাগরিক ভাস্কর চ্যাটার্জি বলেন, “এক শ্রেণির মানুষের অবিবেচনার ফল ভুগতে হয় সবার।” মনোবিদ সুদীপ বসুর মতে, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে, অবসাদ থেকে আত্মহত্যার প্রবণতাও দেখা যায়। প্রবীণ কবি অনিলেশ গোস্বামী বলেন, “বাজির ধোঁয়া ও শব্দ প্রবীণদের প্রাণঘাতী, শিশুদেরও নিস্তার নেই।”
কোন্নগরের ৯৫ বছরের যাদবানন্দ চৌধুরী অভিযোগ করেন, “আমরা মূখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছি। সরকার নির্দেশিকা জারি করেই থেমে যায়, সক্রিয় উদ্যোগ দেখা যায় না।”
মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার জানান, “শীর্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন ও সময়ে সবুজ বাজি অনুমোদিত, আর পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মাইক বাজাতে হলে অনুমতি ও সাউন্ড লিমিটার বাধ্যতামূলক। কিন্তু আদালত ও পর্ষদের নির্দেশ কার্যত উপেক্ষিত।”
মঞ্চের কোষাধ্যক্ষ শুভ্রজিৎ মৈত্র বলেন, “রাজ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার বেআইনি বাজি কারখানা চলছে। যত্রতত্র বাজি মজুত হচ্ছে। কোথাও সবুজ বাজির ক্লাস্টার তৈরি হয়নি।”
প্রবীণ নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, বেআইনি বাজি ও ডিজে বক্স বন্ধ করতে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের মতে, আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে উদাসীনতা চলতে পারে না—মানুষ ও পরিবেশকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ জরুরি।








