দুটি লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে জখম চালক, এক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে
প্রীতিময় সরখেল
নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়ি:
ধূপগুড়ির ঝুমুর সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে দুটি পর্ণবাহী লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে চাঞ্চল্য ছড়ালো।
ঘটনায় লরিচালক নুর আলম (৩৫) গুরুতর জখম হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ির ভিতর আটকে পড়ে থাকেন। এক ঘণ্টার চেষ্টার পর দমকল, পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় চালককে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধূপগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ির দিকে যাচ্ছিল একটি সিমেন্ট বোঝাই লরি। সেই সময় উল্টো দিক থেকে ধূপগুড়িমুখী একটি পর্ণবাহী লরি আসছিল। আচমকাই সিমেন্ট বোঝাই লরিটির সামনের চাকা ফেটে যায়। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি উল্টো দিক থেকে আসা লরিটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুটি গাড়ির সংঘর্ষ এতটাই জোরালো ছিল যে, একটি লরির চালক গাড়ির ভিতর আটকে পড়েন। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি দমকল বাহিনীর কর্মী এবং ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। টানা এক ঘণ্টার চেষ্টায় দমকল কর্মী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত চালককে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
এরপর তাঁকে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
দুই লরির সংঘর্ষের জেরে এশিয়ান হাইওয়েতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুই পাশে লম্বা গাড়ির লাইন পড়ে যায়। পরে দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুল আলম বলেন, “আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি লরির চাকা ফেটে যায়, এরপর প্রচণ্ড শব্দে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। কাছাকাছি গিয়ে দেখি এক চালক লরির ভেতর আটকে পড়েছেন। পরে পুলিশ, দমকল ও স্থানীয়দের মিলিত চেষ্টায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।”
ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরিদুটি আটক করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।








