মানবিকার পরিচয় দিলেন ডা. আব্দুল করিম
নিলেন পাথর খাদানে মৃত শ্রমিকের কন্যার পড়াশোনার দায়িত্ব
মোহাম্মদ সানাউল্লা, নতুন পয়গাম, নলহাটি:
শুধু সহানুভূতি নয়, কার্যকর সাহায্যও করলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও চিকিৎসক ডা. আব্দুল করিম। নলহাটির কাদাশীর গ্রামের পাথর খাদানে শ্রমিক কাজল লেটের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর একমাত্র কন্যা চুমকি লেটের আজীবন পড়াশোনার সমস্ত খরচের দায়িত্ব তিনি নিলেন।
গত শুক্রবার নলহাটির বাহাদুরপুর পাথর খাদানে ধস নেমে ছয় জন শ্রমিকের মৃত্যু ও চার জনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। নিহতদের অধিকাংশই দিনমজুর, অত্যন্ত আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করতেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী কাজল লেট, যিনি পাথর ভেঙে সংসার চালাতেন। স্ত্রী কল্যাণী লেট ও সপ্তম শ্রেণীর কন্যা চুমকি—যার চোখে জটিল রোগ—নিয়ে তাঁর ছোট্ট সংসার ছিল।
হঠাৎ করেই পরিবারের মাথার উপর থেকে ভরসার হাত সরে যাওয়ায় নেমে আসে অন্ধকার। কল্যাণী লেট জানান, “স্বামী পাথর ভাঙার কাজ করে সংসার চালাতেন। এখন সব শেষ হয়ে গেল। মেয়ের চিকিৎসা আর পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাব বুঝতে পারছি না।”
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার কাদাশীর গ্রামে গিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ডা. আব্দুল করিম। তিনি কন্যা চুমকি লেটের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত যাবতীয় পড়াশোনার খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে মৃতের পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনেরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। গ্রামের প্রবীণরা ডা. করিমের এই পদক্ষেপকে “মানবতার জয়” বলে কুর্নিশ জানিয়েছেন।








