কমলালেবুর খোসাও ফেলনা নয় রোজকার স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য চর্চার সঙ্গী
ইয়াসমিন খাতুন
শীতের বাজারে কমলালেবুর চাহিদা যেমন বাড়ে, তেমনই বাড়ে এর সুস্বাদু স্বাদের প্রতি আকর্ষণ। কিন্তু লেবুর কোয়া বা রসাল অংশটুকু চিবিয়ে-চুষে খেয়ে আমরা বেশিরভাগ সময়ই খোসা ফেলে দিই। অথচ আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক পুষ্টিবিদ উভয়ই মনে করেন, কমলালেবুর খোসায় লুকিয়ে আছে অসংখ্য উপকারিতা। ঘরোয়া চিকিৎসা থেকে ত্বক-চুলের যত্ন, এমনকী রোগ প্রতিরোধেও খোসা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কমলালেবুর খোসায় আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ফাইবার এবং প্রাকৃতিক তেল। এগুলি শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, হজমশক্তি উন্নত এবং সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। কমলার খোসাকে রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখলে একে বহু উপায়ে ব্যবহার করা যায়।
ত্বকের যত্নে কমলালেবুর খোসার ব্যবহার বহুদিনের। স্ক্রাব বা ফেসপ্যাক হিসেবে এর গুঁড়ো ত্বকের মৃতকোষ পরিষ্কার করে, দাগ-ছোপ হালকা করে এবং ত্বককে টানটান রাখে। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে এটি বিশেষভাবে উপকারী। কারণ, খোসার প্রাকৃতিক সাইট্রাস উপাদান ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। অনেকের মতে, নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ কমে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

শরীরের ভিতরেও এই খোসা উপকারী। শুকনো খোসা দিয়ে বানানো চা শীতকালের ঠান্ডা, কাশি ও গলার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান শরীরের ফ্রি-র্যা ডিকাল কমায়, ফলে দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। বাড়িতে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতেও কমলার খোসা ব্যবহার করা যায় কেক, বিস্কিট, ডেজার্ট বা স্যালাডে অল্প পরিমাণে যোগ করলে গন্ধ ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, কমলালেবুর খোসায় পলিফেনল নামে এক বিশেষ উপাদান থাকে, যা প্রদাহ কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ডায়েটের সঠিক ব্যবহার হজমশক্তিকেও উন্নত করে।
সব মিলিয়ে, কমলালেবুর খোসা আর ফেলনা নয়। রূপচর্চা থেকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা নানাবিধ উপকারে লাগতে পারে এই সহজলভ্য উপাদানটি। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, লেবুর রস উপভোগ করার পাশাপাশি এর খোসাকেও সঠিকভাবে কাজে লাগালে শীতকাল আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে।








