নোবেলের জন্য আবদার চলবে না চাপ দিয়ে লাভ নেই, ট্রাম্পকে কড়া বার্তা
নতুন পয়গাম, অসলো, ১২ সেপ্টেম্বর: নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য চাপ দিয়ে বা আবদার করে লাভ নেই। আপাতত নোবেলের লোভ ছাড়ুন। এমন চাঁচাছোলা ভাষাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিঁধল নোবেল কমিটি। খবরে প্রকাশ, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেতে মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এজন্য তিনি ইতিমধ্যেই অনলাইন ফান্ড গঠন করেছেন। মার্কিন নাগরিক তথা তাঁর অনুগামীদের কাছ থেকে মাত্র ১৫ ডলার করে সাহায্য চেয়েছেন ট্রাম্প। একান্ত ইচ্ছা, চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার উঠুক তাঁর হতে।
তবে চাইলেই তো হবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তার উদ্যোগ, কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি ও তার প্রমাণ দেখাতে হবে নোবেল কমিটিকে। সেখানে তো ট্রাম্পের পারফরম্যান্স জিরো। সুতরাং আপাতত তাঁকে খালি হাতেই ফিরতে হবে। যদিও ট্রাম্প এসব নিয়মের কথা শুনতে বা মানতে নারাজ। তার নোবেল পুরস্কারের পক্ষে সওয়ালকারী দোসর জুটিয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়িয়ে চলেছেন নোবেল কমিটির উপর। আবার নিজে দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে তিনি নাকি ৬-৭টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। এমতাবস্থায় নোবেল কমিটির তরফে সাফ জানানো হয়েছে, অন্যায় আবদার করে বা চাপ বাড়িয়ে লাভ কিছু হবে না। নোবেল কমিটি কারো কথা শুনতে রাজি নয়, তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, অনেকবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য উপযুক্ত। পূর্বসূরী বারাক ওবামা পেয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। সেই উদাহরণ টেনে সাফাই দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি ক্ষমতায় আসার পর দু-দফায় ৬-৭টা যুদ্ধ থামিয়েছি। রুশ-ইউক্রেন ও হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ থামাতেও কার্যকর পদক্ষেপ করে চলেছেন তিনি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ক্রিশ্চিয়ান বার্গ হার্পভিকেন বলেন, এটা সত্যি যে একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। তবে এও সত্য যে, মিডিয়ার আলোচনা আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে না। আমরা অনেক যাচাই বাছাই করে যোগ্যতা অনুযায়ী নোবেল প্রাপকের তালিকা তৈরি করি এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিই। বাইরে থেকে কোনও চাপ আমাদের প্রভাবিত করতে পারে না।
তবুও চেষ্টার কসুর করছেন না ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে তাবেদারদের ব্যবহার করছেন। ১০ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা হবে। তার আগে ট্রাম্পের হয়ে নোবেল কমিটির কাছে সুপারিশ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, পাক সেনাপ্রধান আসিফ মুনির প্রমুখ। সূত্রের খবর, ভারতের কাছেও এই মর্মে সুপারিশ করতে আবদার করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু নয়াদিল্লি তা করেনি।
খবরে প্রকাশষ চলতি বছর ট্রাম্পের নোবেল প্রপ্তির সম্ভাবনা নেই। কারণ, নোবেল মনোনয়নের শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারী। ট্রাম্প মাত্র তার ১১ দিন আগে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন। তাই আপাতত এ বছর অন্তত তাঁর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে না।








