শিক্ষা মানেই কি চাকরি? — সফলতার সংজ্ঞা নতুন করে ভাবা দরকার নয় কি?
অতসী মণ্ডল, নতুন পয়গাম:
জীবন বোধ এখন হাওয়ায় ভাসে। তার গভীরতা মাপতে আজকের দিনে আর সমুদ্রে নামতে হয় না। কিন্তু সত্যি করে বলুন তো ঠেকে শেখা আর শুনে শেখার মধ্যে কোনটা বেশি আপনাকে শিক্ষিত করে তুলবে? উত্তর ভিন্ন হবে কিন্তু প্রশ্নের তীর বিঁধবেই।
তবে আর একটা প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে- শিক্ষিত মানেই কি চাকরিজীবী? শিক্ষিতদের কি অন্য পেশা হতে নেই? বলাইবাহুল্য উত্তর একটাই, না এই চলমান সমাজে অন্যথা হতে নেই। অর্থাৎ আমাদের সমাজে যেন শিক্ষার একমাত্র পরিণতি চাকরি। অথচ শিক্ষিত গড়ার সেই রোমহর্ষক ইতিহাস, প্রেক্ষাপট কিন্তু অন্য কথা বলে।
তবে এ প্রসঙ্গেও কথা উঠবে। কেউ কেউ বলবে এটা বস্তাপচা সেন্টিমেন্ট কিংবা আঁতলামি। যা দিয়ে কেবল জল খেতে হয়। কেউ হয়তো বলবেন—যা লেখা আছে বইয়ে, আমরা তাই শিখি, কিন্তু সত্যিই কি সেটাই চূড়ান্ত? ইতিহাস বা ঘটনার অনেকটাই তো আমরা চোখে দেখিনি। অথচ আশ্চর্যভাবে এরা বই পড়ায় বিশ্বাস করেন না, বরং সোশ্যাল মিডিয়াকে আঁকড়ে ধরেন। শুধু তাই নয়, সেই শিক্ষা জীবনে প্রয়োগও করেন।
ফলাফল কী?—আজকের শিক্ষা অনেক সময় একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একক সত্তা গড়ে না তুলে, এক ধরনের পাঁচমেশালি মানুষ বানাচ্ছে। যেন মুখ নয়, এখন মুখোশ নিয়েই কারবার। কারণ সবাই খুব স্বাভাবিকভাবে সফল হতে চায়। আর এই সফলতার প্রদর্শনী আজ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিন্তু আসল প্রশ্নটা এখানেই—
সফল হতে কি পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়? এখন কি শুধু কূটনৈতিক কৌশলই সফলতার একমাত্র চাবিকাঠি? নাকি সমাজ এমনভাবে প্ররোচিত করছে, যাতে মানুষ উদ্যোক্তা হতে ভয় পায়, আর কেবল চাকরিজীবীকেই সফলতার মাপকাঠি হিসেবে মেনে নেয়?








