সমুদ্রের গভীরে অদ্ভুত প্রাণীর সন্ধান
নতুন পয়গাম, ৮ সেপ্টেম্বর:
সমুদ্রের গভীর তলদেশে অদ্ভুত প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, জলজ প্রাণী সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বর্তমান ধারণাকে আমূল বদলে দিতে পারে এটি। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় ১০ হাজার মিটার গভীরে ‘টিউব ওয়ার্ম’ ও শামুক জাতীয় নতুন ধরনের প্রাণীর হদিশ পেয়েছেন তাঁরা। সবথেকে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এসব প্রাণী শক্তি সংগ্রহ করে মূলত রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে। এ থেকে ইঙ্গিত মেলে, আমাদের ধারণার চেয়েও কঠিন পরিবেশে প্রাণ টিকে থাকতে ও বিকাশ লাভ করতে পারে এবং এমন আরও অনেক অদ্ভুত প্রাণী ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
কয়েকজন গবেষক বলছেন, এই ধরনের চরম প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা প্রাণীদের সম্পর্কে গবেষণা ও অধ্যয়ন করলে শুধু পৃথিবী নয়, মহাবিশ্বের অন্য কোথাও, যেমন ভিনগ্রহে, জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এমনকি, একে ঘিরেই গড়ে উঠতে পারে ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধানের নতুন পদ্ধতি। গবেষকরা বলছেন, এমন প্রতিকূল পরিবেশে বসবাস করা প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য বিকল্প শক্তির উৎস খুঁজে নিতে হয়।
আমাদের পরিচিত বেশিরভাগ প্রাণী সূর্যের আলো ব্যবহার করে সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে বাঁচে। কিন্তু গভীর সমুদ্রের এসব প্রাণী সূর্যের আলো থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত। ফলে তারা শক্তি সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করে ‘কেমোসিনথেসিস’ নামে এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে তারা চারপাশের রাসায়নিক উপাদান থেকে শক্তি উৎপাদন করে বেঁচে থাকে।
এটি প্রাণের বিকাশের এক ভিন্নধর্মী পথ, যা পৃথিবীর বাইরের জীবন নিয়েও নতুন ভাবনার জন্ম দেয়। এই কেমোসিনথেসিস নির্ভর অনেক জীব বা প্রাণী সমুদ্রের গভীরে পাওয়া যেতে পারে, যারা সমুদ্রতলের ফাটল থেকে বের হওয়া হাইড্রোজেন সালফাইড ও মিথেন গ্যাস থেকে শক্তি নিয়ে বেঁচে থাকে। উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ২৫০০ কিমি. দীর্ঘ খাঁড়িগুলো পরীক্ষা করে সমুদ্রের গভীরে এমন প্রাণের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা।
সায়েন্স জার্নাল ‘নেচার’ এই উদ্ভাবনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই গবেষণার জন্য ‘ফেনদৌঝে’ নামে এক বিশেষ ডুবোযান ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ করেছেন তাঁরা। এই টিমের প্রধান গবেষক ড. শিয়াওটং পেং বলেন, এটি একটি রোমাঞ্চকর গবেষণা, বিশেষত যেখানে কখনও মানুষের পা পড়েনি, এমন গভীর জায়গায় যেসব সমুদ্রবিজ্ঞানী অনুসন্ধান চালান, তাদের জন্য নতুন আবিষ্কারের এ এক অনন্য সুযোগ, আর আমরা যা পেয়েছি তা সত্যিই বিস্ময়কর।
অতল সমুদ্রের উচ্চচাপের পরিবেশে টিকে থাকতে এই প্রাণীদের বিশেষ অভিযোজন ক্ষমতা থাকতেই হবে বলে জানিয়েছেন টিমের অন্যতম সদস্য সমুদ্রবিজ্ঞানী ড. মেগ্রান ডু। তাঁর মতে, এই প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী কেবল বিরলই নয়; বরং সমুদ্রের অতল গহ্বরে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে রয়েছে- যা গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আমাদের গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।








