রক্তে ভাসছে দিল্লি, বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, স্বভাবতই উঠছে প্রশ্ন
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন শোকে স্তব্ধ। সোমবার সন্ধ্যার ভয়াবহ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয় বহু প্রাণ, আহত আরও অনেকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গোটা দিল্লিজুড়ে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। এহেন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ সফরে থাকায় প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। মঙ্গলবার সকালে দু-দিনের ভুটান সফরে রওনা হন তিনি। অথচ আগের দিন সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার অদূরে বিস্ফোরণ ঘটে। দেশের অভ্যন্তরে যখন কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর নিয়ে উঠেছে প্রবল বিতর্ক।
বিরোধীদের প্রশ্ন, এই সময়ে দেশের রাজধানী যখন রক্তাক্ত, তখন দেশের কর্ণধার বিদেশ সফরে কেন? পুলওয়ামা হামলার সময় ছিলেন জিম করবেট পার্কে, করছিলেন শুটিং। পহেলগাঁও হামলার পরেই দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ না দিয়ে তিনি চলে যান বিহার নির্বাচনী প্রচারে। আর মণিপুরের কথা না বলাই ভাল — এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর সংবেদনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
রাজধানী শহরজুড়ে এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও এভাবে হামলা কীভাবে সম্ভব হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন এক সময়ে যখন দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক চরমে, তখন প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। তাদের মতে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কার্যত সমন্বয়ের অভাবই এর মূল কারণ। বিস্ফোরণের পর দুইদিন কেটে গেলেও গোয়েন্দা তথ্য বা সতর্কতার অভাব নিয়ে নীরবতা পালন করছে কেন্দ্র।

প্রধানমন্ত্রী অবশ্য ভুটান থেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে এসেছি। দিল্লির ঘটনায় গোটা দেশ শোকাহত। আমি তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে সারারাত যোগাযোগ রেখেছি। ষড়যন্ত্রকারীরা কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। কিন্তু বিরোধীরা বলছে, এমন এক সময়ে বিদেশে থেকে বার্তা পাঠানো যথেষ্ট নয়, দেশের মাটিতে থেকে জনগণের পাশে থাকা প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক দায়িত্ব।
যখন রাজধানী রক্তাক্ত, নাগরিকেরা শোকাহত ও আতঙ্কিত, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে—এই প্রতীকী চিত্র এখন ভারতে রাজনৈতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের দায়বোধ নিয়েই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিস্ফোরণ শুধু গোয়েন্দা ব্যর্থতার নয়, সরকারের জনসংযোগেরও বড়সড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় এবার দেশের শাসকশক্তি যে কঠিন চাপে পড়েছে, তা আর গোপন নেই।








