মাহাদুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাকাইয়া মাদ্রাসায় দাওয়াতি ও ইসলাহী সম্মেলন
এম নাজমুস সাহাদাত, নতুন পয়গাম, মালদহ: এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: মালদহ জেলার মাকাইয়া-বালুপুর এলাকায় মাহাদুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাকাইয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত একদিনের বৃহৎ দাওয়াতি ও ইসলাহী সম্মেলন ও জলসা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষা প্রসার, সামাজিক সংস্কার এবং নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মালদহ সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। দিনের শুরুতে সম্মেলন পর্বে ইসলামের মৌলিক আদর্শ, বর্তমান সমাজে মুসলিম সমাজের দায়িত্ব এবং দ্বীনি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা জিল্লুর। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নৈতিকতা ও আধ্যাত্মিকতা ছাড়া সমাজ কখনও সুস্থ হতে পারে না। দ্বীনি শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জমিয়তে আহলে হাদিসের সভাপতি হযরত আসগর আলী ইমাম মেহেদী মাদানী। তিনি বলেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ইসলামের মূল শিক্ষা ভুলে গেলে চলবে না। মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বহু খ্যাতনামা আলেম-ওলামা, মুহাদ্দিস ও দাঈগণ বক্তব্য রাখেন। তাঁদের আলোচনায় ইসলামের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, পারিবারিক জীবনে শুদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং যুবসমাজকে নৈতিক পথে পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে সমাজ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে। বাদ মাগরিব থেকে অনুষ্ঠিত জলসায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জলসা পর্বের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা জিল্লুর রহমান মাদানী সাহেব। জলসায় বক্তারা ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতার বার্তা প্রদান করেন। বিশেষভাবে বর্তমান সময়ে সামাজিক বিভেদ, নৈতিক অবক্ষয় ও ভোগবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে ইসলামের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়।
জলসা মঞ্চ থেকে যুবসমাজকে মাদক, অনৈতিকতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, চরিত্র ও আদর্শের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, ইসলামী আদর্শে জীবন গড়ে তুললে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই সম্মেলন ও জলসার মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্বীনি সচেতনতা বৃদ্ধি, ইসলামী শিক্ষার প্রসার এবং মানুষের চরিত্র গঠনে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা। তাঁরা মনে করেন, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাই একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। অনুষ্ঠানে আগত মুসল্লি ও অতিথিদের জন্য নারী ও পুরুষদের পৃথক বসার ব্যবস্থা রাখা হয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্য পানীয় জল, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, যার ফলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ সার্থক হয়েছে বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শেষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সম্মেলন ও জলসায় অংশগ্রহণকারী সকল আলেম-ওলামা, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের দ্বীনি কর্মসূচিতে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করা হয়।








