সাইকেল হতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমানোর পাসওয়ার্ড
নতুন পয়গাম, ২৩ সেপ্টেম্বর:
সাইকেল চালানো শরীরের জন্য ভাল। পরিবেশ-বান্ধব এই দু-চাকার যান পকেটের ওপরও চাপ কমায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় সাইকেল চালানোর উপকারিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, চলাচলের জন্য কেউ যদি গাড়ির বদলে সাইকেল বেছে নেন, তবে তা মস্তিষ্কের বিভিন্ন জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রেও বেশ কাজে আসে। ব্রিটেনের ‘ইউকে বায়ো-ব্যাংক’-এর এই সাম্প্রতিক গবেষণা ‘জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেন’ সাময়িকীতে প্রকাশ হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রেনে যাতায়াতের থেকে সাইকেল ব্যবহার করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ২০ শতাংশ এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
ডিমেনশিয়া বলতে মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও কাজ করার ক্ষমতা হ্রাসকে বোঝায়। বিভিন্ন রোগের কারণে ডিমেনশিয়া হতে পারে। এমন একটি রোগ হল আলঝেইমার। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোষের ভেতরে ও আশপাশে অস্বাভাবিকভাবে প্রোটিন জমলে আলঝেইমার হতে পারে।
এই গবেষণা তথা সমীক্ষায় ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। তাদের গড় বয়স ৫৫ বছর। তাদের সামনে একাধিক বিকল্প তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয়, বিগত চার সপ্তাহে যাতায়াতের জন্য তাঁরা কোন বিকল্পটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন। বাস বা ট্রেনে যাতায়াত করা, হেঁটে যাতায়াত করা, সাইকেল অথবা বাইক ব্যবহার করা। তারা নিজেদের যাতায়াতের ধরনগুলো নির্বাচন করার ১৩ বছরের বেশি সময় পর দেখা যায়, ৮৮৪৫ জনের মস্তিষ্কে ডিমেনশিয়া দেখা দিয়েছে। ৩৯৫৬ জন আলঝেইমারে আক্রান্ত। যাঁরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে হাঁটাহাঁটির ওপর ভরসা করেন, তাদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৬ শতাংশ কম।
সমীক্ষায় সাইকেল চালানোর ফলে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এও দেখা গেছে, মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নামক অংশের তুলনামূলক বড় আয়তনের সঙ্গে সাইকেল চালানোর সম্পর্ক রয়েছে। মস্তিষ্কের এই অংশে স্মৃতি সংরক্ষণ থাকে এবং কোনো কিছু শেখার সঙ্গে জড়িত।
‘নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি’র স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষক অধ্যাপক ডা. জো ভারগেস বলেন, কয়েক দশক ধরে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম মস্তিষ্কের জন্য খুব ভাল। সাইকেল চালানো হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে এবং মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও পরিপাকের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও কমে। তবে কেউ যদি নতুন করে সাইকেল চালানো শুরু করতে চান, তাহলে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। দেখে নিতে হবে, তিনি এখনই সাইকেল চালানোর মতো যথেষ্ট সুস্থ কি না।








