ভিডিও-তে চরম বিদ্বেষ বন্দুকবাজ মুখ্যমন্ত্রীর হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে জেলে পাঠানোর দাবি সিপিএম-এর
নতুন পয়গাম, গুয়াহাটি: অসমের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ গৌরব গগৈকে তাক করে গুলি ছুড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-এর পুত্র গৌরব গগৈকে পরানো হয়েছে ফেজ টুপি। গগৈয়ের পাশে আরেকজন, যাঁর মুখে দাড়ি রয়েছে। এমন ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল আসামে বিজেপি’র রাজ্য কমিটির অ্যাকাউন্ট থেকে। কেবল রাজ্য নয়, এমন বিদ্বেষ এবং হিংসার বেলাগাম প্রচারের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে থাকে বড় অংশ। সেই ভিডিও আপাতত আসাম রাজ্য বিজেপি’র অ্যাকাউন্টে দেখা যাচ্ছে না।
বিশ্বশর্মার এমন প্রচারে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সিপিআই (এম)। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি সোশাল মিডিয়ায় পোস্টে দাবি তুলেছে, সুপ্রিম কোর্টকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে হিংসায় উসকানি এবং নিয়মিত বিদ্বেষ প্রচার বন্ধ করতে হবে। সিপিএম-এর দাবি, আসামে বড় রকমের বিপর্যয় হওয়ার আগেই জেলে বন্দি করতে হবে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মাকে।
এই প্রথম নয়, মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বশর্মা লাগাতার প্রকাশ্যে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন। সরাসরি সাম্প্রদায়িক হিংসাকেও উসকে দিচ্ছেন বারবার। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে চরম বিতর্কে এই ভূমিকা আরও স্পষ্ট। মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিদেশে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি এই বিদ্বেষকেই উসকে দিচ্ছেন। তবে বিহারে এসআইআর পর্ব গুটিয়ে গেলেও ‘বাংলাদেশি’ বা ‘রোহিঙ্গা’ কারা, সেই তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
ক’দিন আগেই বিশ্বশর্মা বলেছেন, ‘মিঞাঁ’-দের যন্ত্রণা দেওয়াই তাঁর দায়িত্ব। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে তারা যন্ত্রণা পেলে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মনে করেন। আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের স্থানীয়ভাবে ‘মিঞাঁ’ বলা হয়। কংগ্রেস কমিটির মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেছেন, ‘‘প্রতীকী ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে কেমল এমন মনে করলে ভুল হবে। বিজেপি সত্যিই গণহত্যায় নেমেছে। এই বিষ, ঘৃণা, হিংসা সবই নরেন্দ্র মোদীর জন্য। বিচারব্যবস্থা কি ঘুমাচ্ছে?’’
কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে.সি বেণুগোপাল বলেছেন, ‘‘পরিষ্কার গণহত্যার উসকানি দেওয়া হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট শাসন যা দশকের পর দশক ধরে চেয়ে এসেছে।’’








