একলব্য স্কুলে হিন্দি পড়াতেই হবে, কেন্দ্রীয় ফরমানে বিতর্ক
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
হিন্দি নিয়ে অনেকদিন ধরেই দেশজুড়ে তরজা চলছে। অহিন্দিভাষী রাজ্যগুলো হিন্দির পক্ষে কেন্দ্রের পক্ষপাতের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার। বিশেষ করে দক্ষিণী রাজ্যগুলো হিন্দির ভাষিক আগ্রাসন বা দৌরাত্ম্য মেনে নিতে পারে না। তামিলনাডু সরকার তো হিন্দি নিষিদ্ধ করতে বিল আনতে চলেছে। এদিকে কেন্দ্র সরকারের মতে, চাকরি পেতে হলে হিন্দি বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি ন্যাশনাল এডুকেশন সোসাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস বা এনইএসটিএস-এর অধীন ‘একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল’গুলির এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল দেশজুড়ে। ফের একই ধরনের নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র।
অমিত শাহ মাঝেমধ্যেই ব্যালেন্স করতে সব ভাষাকে শ্রদ্ধা, সম্মান করি বললেও বোঝাই যাচ্ছে, তাদের হিন্দি-প্রীতি অটুট। কেন্দ্রের নির্দেশ, একলব্য স্কুলে কেবল শিক্ষকরা নন, এবার থেকে হিন্দি পড়াতে হবে অন্যান্য সব বিষয়ের শিক্ষকদেরও। গত ২০ আগস্ট জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘হিন্দি ভাষায় শিক্ষাদান কেবল ল্যাঙ্গুয়েজ শিক্ষকেরই দায়িত্ব নয়, বরং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরাও এই কাজে যুক্ত থাকবেন। ফলে হিন্দি শেখানোর দায়িত্ব সব শিক্ষককেই নিতে হবে। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণির আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হিন্দি ভাষার প্রতি ‘আগ্রহ ও উৎসাহ’ বাড়াতে প্রতিটি স্কুলে ‘ভাষা কক্ষ’ করতে বলা হয়েছে। এই বিশেষ শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে থাকবে প্রখ্যাত হিন্দি সাহিত্যিকদের ছবি, পোস্টার, চার্ট ও ডায়াগ্রাম। এছাড়াও হিন্দিতে কবিতা পাঠ, বিতর্ক, প্রবন্ধ লেখা ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার দক্ষিণী রাজ্যগুলোর পাশাপাশি নতুন নির্দেশিকার বিরোধিতা করছেন শিক্ষাবিদরাও। তাঁদের মতে, আদিবাসীরা সাধারণত আঞ্চলিক ভাষাতেই পারদর্শী। তারা হিন্দি বলতে, পড়তে, লিখতে পারে না বা জানে না। ভাষা শিক্ষা হিসেবে বড়জোর হিন্দি একটা বিষয় হতে পারে। কিন্তু সব ক্লাসে হিন্দির এত বাড়বাড়ন্ত থাকলে আদিবাসী, উপজাতি, জনজাতি গোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের হীনম্মন্যতা বাড়াবে। আদিবাসী সমাজের ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরম্পরাগত সংস্কৃতির ওপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়াকে মানতে পারছেন না বিদ্বজ্জন ও শিক্ষাবিদরা। তাঁদের অভিযোগ, বহুত্ববাদী দেশে এমন একতরফা শিক্ষানীতি দেশের জন্য ক্ষতিকারক হবে।








