বৃষ্টি উপেক্ষা করে জলঙ্গির জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে কংগ্রেস নেতৃত্ব
সামিমা খাতুন, নতুন পয়গাম, ডোমকল: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ব্লকের চরের গ্রামগুলোতে পদ্মা নদীর জল প্রবেশ করতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মধ্যে। গত বছরের তুলনায় এবার পদ্মায় জলের পরিমাণ অনেকটাই বেশি, ফলে বানভাসি হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আর সেই খবর পেয়েই বৃষ্টি উপেক্ষা করে নৌকায় চড়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ালেন জলঙ্গি ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, যুব কংগ্রেস সভাপতি তৌসিফ জামান প্রমুখ।
চরের বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছে তাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাঁদের সমস্যার কথা। আশ্বাস দেন, দুঃসময়ে কংগ্রেস তাঁদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “ভোটের সময় সব দলের নেতাদের দেখা গেলেও, ভোট মিটলে কেউ আর ফিরেও তাকান না। এবার বন্যা পরিস্থিতিতে এখনও পর্যন্ত এলাকার বিধায়ক কিংবা সাংসদের দেখা মেলেনি। শুধু কংগ্রেস নেতারাই এসেছেন আমাদের খবর নিতে।”
এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে রাস্তাঘাট, কালভার্ট এবং ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্ষাকালে চরে যাতায়াত একেবারে বন্ধ হয়ে যায়, নৌকাই একমাত্র ভরসা। তার ওপর সাপের উপদ্রব, রাতে ঘুমাতে ভয় লাগে।”
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। শাসক দলের তরফে এক সময় সেই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, পরবর্তীতে তা কার্যত ঝুলেই রয়েছে। কবে আদৌ সেই ব্রিজ হবে, তা অনিশ্চিত।
জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, “মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোকে আমরা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। এই চরবাসীদের দুর্দশা দেখে ব্যথিত হয়েছি। নৌকা করে এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে এখানে পৌঁছেছি, কারণ মানুষের পাশে থাকাটাই আসল রাজনীতি। আমরা ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধে কোনও খামতি নেই। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা সবসময়ই মানুষের পাশে থেকেছি, থাকব। সরকার যদি চরের মানুষের কথা ভুলে যায়, কংগ্রেস ভুলবে না।”
বন্যা কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতাদের এই উপস্থিতি ও আশ্বাস যেমন মানুষের মনে স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই অন্যান্য দল এবং বিশেষ করে শাসকদলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ।








