কোজাগরীর রাতে গাড়িচাপায় মৃত্যু কংগ্রেস নেতা নরেন্দ্রনাথ সাহার, খুনের অভিযোগ পরিবারের
গোলাম আহম্মেদ চিশতী, মালদা
কোজাগরীর পূর্ণিমার রাতে মর্মান্তিক ঘটনায় শোক ছড়িয়েছে মালদায়। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ও কংগ্রেস নেতা নরেন্দ্রনাথ সাহা গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন দুই তৃণমূল নেতা-সহ চারজন। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে, হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লকের ভিঙ্গল গ্রাম পঞ্চায়েতের কনুয়া সংলগ্ন ইসাদপুর গ্রামে।
ঘটনার পর স্থানীয় থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত বিপদ মণ্ডল। পুলিশ ঘাতক গাড়িটি আটক করেছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
নরেন্দ্রনাথ সাহা পেশায় আইনজীবী ছিলেন। চাঁচল মহকুমা আদালত বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আইনি মহলে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি ছিল।
নিহতের স্ত্রী মঞ্জু সাহা জানান, “খবর পেয়ে আমি ছুটে যাই। দেখি গাড়ির নীচে দু’টো মোটরবাইক আর চারজন পড়ে আছে। আরও দু’জন একটু দূরে। ঘটনাস্থলেই আমার স্বামী মারা যান। স্থানীয়রা বলেন, বিপদ মণ্ডলই গাড়ি চালাচ্ছিল। এর আগে আবাস যোজনার ঘর নিয়ে ওর সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। আমার স্বামী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিল বলে ওর প্রাণ দিতে হল। আমি বিপদের ফাঁসি চাই।”
প্রত্যক্ষদর্শী টিংকু সাহা বলেন, “রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমরা বন্ধুরা বাইরে ছিলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তার পাশে একটা গাড়ি থেমে আছে, কয়েকজন মাটিতে পড়ে রয়েছে। নরেনদা তখনই মারা গেছেন। শেখর শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। আমরা সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লক যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি শেখর সাহা, তৃণমূল নেতা শশাঙ্ক সাহা, শিক্ষক মনোজকুমার দাস ও পুলক সাহা। শেখর সাহা বর্তমানে শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছেন। শশাঙ্ক সাহাকে রায়গঞ্জের এক নার্সিং হোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি দু’জন মালদা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী।
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ও হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মোস্তাক আলম বলেন,
“মালদায় একের পর এক রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলা হচ্ছে। বাবলার খুনের পর নাগরাকাটায় সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর প্রাণঘাতী হামলা, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির ওপর জুতো নিক্ষেপ, আর এবার নরেনের খুন—সব মিলিয়ে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, নরেনের খুনে অভিযুক্তের কাস্টডি ট্রায়াল হোক এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হোক। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে।








