হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চরমে দোকান, বাড়ি-গাড়ি হামলা ভাঙচুর এবং খুনের হুমকি
গোলাম আহম্মেদ চিশতী
নতুন পয়গাম, মালদা, ১০ সেপ্টেম্বর:
তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন ব্লক কমিটি ঘোষণার পর মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে শাসকদলের ভেতরেই গোষ্ঠীকোন্দল প্রকট হয়ে উঠল। মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খানের ঘনিষ্ঠ নেতাদের বাড়ি, দোকান ও গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং খুনের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেনের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বুলবুল খানের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা–কর্মীরা। ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, মন্ত্রীর ভাই জম্মু রহমানের নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে। আক্রান্ত নেতাদের নিরাপত্তার দাবিও তোলেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন আগে হরিশ্চন্দ্রপুর ১(এ) সাংগঠনিক ব্লক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি ঘোষণা করে দল। সেই কমিটি থেকে বাদ পড়েন বুলবুলের ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন সভাপতি জিয়াউর রহমান ও যুবনেতা পূজন দাস। অন্যদিকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মোশারফ হোসেনকে ব্লক সভাপতি এবং বিজয় দাসকে যুব সভাপতি করা হয়। এ নিয়েই দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আরও ঘনীভূত হয়।
অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে বুলবুল ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত সদস্যা মন্দিরা দাস ও তাঁর স্বামী পূজন দাসের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ি ও বাইরে রাখা গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আইএনটিটিইউসির ব্লক সভাপতি সাহেব দাসের রেস্তোরাঁয়ও ভাঙচুর চালানো হয়। হামলাকারীদের মধ্যে অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সঞ্জীব গুপ্তা, যুব সভাপতি বিজয় দাস, দুর্জয় দাস ও জাবির হোসেনদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আক্রান্ত মন্দিরা দাসের অভিযোগ, “আমার স্বামীকে খুন করার জন্য ওরা এসেছিল। না পেয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে। জম্মু রহমানের পরিকল্পনায় এই হামলা হয়েছে। রাজনীতিতে পেরে না উঠে খুনের ছক কষেছে ওরা।” পূজন দাস বলেন, “পুলিশের সামনেই এই তাণ্ডব চালিয়েছে তারা। প্রকাশ্যে বলেছে আমাকে খুন করবে। এরা সিন্ডিকেট চালিয়ে এলাকায় ত্রাস তৈরি করছে। সামনে নির্বাচন আসছে, তাই ভয় দেখানো হচ্ছে।”
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করলে তাঁদের আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই হরিশ্চন্দ্রপুরে প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন ও বুলবুল খানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে।
কলকাতা থেকে প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন জানান, “আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। বিষয়টি জেনেই যা বলার বলব।”
চাপা উত্তেজনায় রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকা। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।








