ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া চিঠি রাজ্যের দাবি না মানলে এসআইআর স্থগিত করা হোক: মমতা
নতুন পয়গাম, কলকাতা: এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে ফের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতের পথে রাজ্য। রাজ্য সরকারের জারি করা ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্রকে ভোটার পরিচয়পত্রের বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দেওয়ার দাবিতে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের দাবি মানা না হলে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবিও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অনানুষ্ঠানিকভাবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্য সরকারের ইস্যু করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। অথচ এ সংক্রান্ত কোনও লিখিত নির্দেশ বা আইনি বিজ্ঞপ্তি এখনও পর্যন্ত জারি করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদেরও শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার যোগ্য হলেও বাস্তবে তাঁদের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে। এর জেরে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার মুখে পড়েছেন বলে দাবি রাজ্যের।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক ত্রুটি রয়েছে। ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কারণ জানানো হচ্ছে না। প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদের ২০ থেকে ২৫ কিমি. দূরের শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ ছাড়াও বানান বা বয়স সংক্রান্ত সামান্য ত্রুটির ক্ষেত্রেও নতুন করে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। উল্লেখ্য, ডোমিসাইল শংসাপত্র ঘিরে অনিশ্চয়তার জেরে কলকাতা পুরসভায় আবেদনকারীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিসে নাগরিকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতার সব কাউন্সিলরের কাছে নির্দেশিকা পাঠানো হয় মেয়র ফিরহাদ হাকিমের তরফে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৮০টি করে নিবাসী শংসাপত্রের আবেদন জমা পড়ছিল। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাজ্যের প্রস্তাবিত আধিকারিক তালিকা উপেক্ষা করা হয়েছে। অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের নিযুক্ত করা হচ্ছে, যাঁরা তাঁদের নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে কাজ করছেন। চিঠির শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই ত্রুটিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়া সংশোধন না হলে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হোক।








