চিরাগের ধূমকেতুর মতো উত্থান, পিকে-র উল্কা পতন
নতুন পয়গাম, পাটনা:
বিহারে প্রথম বারের বুথফেরত সমীক্ষায় বিরোধীদের মহাজোটকে এগিয়ে রাখা হলেও দ্বিতীয় সমীক্ষায় এনডিএ-র পক্ষে জনমত দেখিয়েছিল বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থা। এ নিয়ে যুযুধান শিবিরে অনেক তরজা হলেও শেষমেষ নিরবাচন কমিশনের পোলের সঙ্গে মিলে গেল এগজিট পোল। সবথেকে চর্চায় উঠে এসেছে পোল ডায়েরি সংস্থার নাম। যদিও এই সংস্থার নাম আগে সেভাবে শোনাই যায়নি। একমাত্র এই সংস্থাই বুথফেরত সমীক্ষায় বলেছিল, এনডিএ জোট ২০০ পেরিয়ে যেতে পারে। শুক্রবার হুবহু তাই মিলে গেল। অনামি এই সংস্থার কাছে গোহারা হল নামজাদা সমীক্ষক সংস্থাগুলো এবং তদের রিপোর্ট।
এসআইআর, ভোট চুরি, জাতিগত জনগণনা, লাগামছাড়া বেকারত্ব, পরিযায়ী শ্রমিকের ঢল, কর্মসংস্থানের খাতায় জিরা — কোনকিছুই বিহার বিধানসভা নির্বাচনে খাটল না। বিরোধীদের তর্জন গর্জন সব পানিতে গেল। যাবতীয় অর্জন করল বিজেপি-জেডিইউ তথা এনডিএ জোট। সর্বশেষ ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের পর থেকে রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা জারি রয়েছে। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লির মডেলে এবার বিহারেও বিপুল জয় পেল এনডিএ। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এভাবেও কি ফিরে আসা যায়? কীভাবে? তার উত্তর দেশবাসী জানেন। তাই তারা মানতে পারছেন না এসব রাজ্যের ভোটের ফলাফল।

শুক্রবার গণনা ও ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিহারে এবারও রকেট গতিতে এগিয়ে চলেছে এনডিএ। কাজেই দেয়নি অ্যান্টি ইনকমবেন্সি ফ্যাক্টর। তাদের জয়রথ এতই বেশি ছিল যে, তেজস্বী যাদব পর্যন্ত হারতে হারতে শেষমেশ জিতেছেন। এবার সবথেকে চমকপ্রদ উত্থান হয়েছে চিরাগ পাসোয়ানের। ২৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে রামবিলাস পাসোয়ানের পুত্র চিরাগের দল এলজেপি জিতেছে ১৯টি। বিপরীত ফল হয়েছে বিরোধীদের। ১৪৩ আসনে লড়ে আরজেডি ৩০ পার করতে পারেনি। ৬১ আসনে প্রার্থী দিয়ে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৬টি। যদিও মহাজোট পেয়েছে ৩৮ শতাংশ ভোট।
প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, এবার জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট হয়নি। উচ্চবর্ণ, দলিত, ওবিসি, ইবিসি, এমনকি মুসলিমদের একাংশও ভোটও নাকি এনডিএ পকেটস্থ করেছে। লালুর দল আরজেডির ইউনিক ফর্মূলা মুসলিম-যাদব (MY) কম্বিনেশন এবার কাজে লাগেনি। কিন্তু এসব ভোট গেল কোথায়! বিশ্লেষণ বলছে, মুসলিম ভোটের একাংশ ছিনিয়ে নিয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম। এই ভোট কাটাকুটির খেলায় সুবিধা হয়েছে বিজেপির।
বিজেপি একক বৃহত্তম দল হলেও তুলনামূলক বেশি সাফল্য পেয়েছে নীতীশের দল। এই দলটি গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ আসন পেয়েছে। অর্থাৎ ২০ বছর পরেও অ্যান্টি নয়, হয়েছে প্রো ইনকামবেন্সি।

কংগ্রেস তথা বিরোধীদের ভোট চোর তত্ত্ব, এসআইআর, রাহুল-তেজস্বীর ১৮দিন ধরে ভোটাধিকার যাত্রা ইত্যাদি কিছুই কাজ করেনি এবার। তাই আবারও কংগ্রেস তথা ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিল। সবথেকে বড় কথা হল, ভাটকুশলী পিকে-র দলের ভরাডুবি। যার ফর্মূলা বা স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে, বিহারে নীতীশ জিতেছে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জী জিতেছেন, সেই পিকে-র দল জিরো হয়ে গিয়েছে বিহারে। এটাও ভাববার বিষয় বৈকি।








