হিন্দু মহাসভাকে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির শীর্ষ কোর্টে মমতার সওয়াল ‘সংবিধানের প্রতি আস্থার প্রতীক’
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য পেশকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে ইতি টানলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সওয়াল আদতে সংবিধানের প্রতি তাঁর গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। বিষয়টিকে নিয়ে অহেতুক রাজনীতি না করার জন্য আবেদনকারী পক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছে আদালত।
গত বুধবার এসআইআর মামলার শুনানিতে আইনজীবীদের সারিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে নিজের বক্তব্য পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই উপস্থিতিকে ‘সাংবিধানিকভাবে অনুচিত’ দাবি করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তাদের দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে এমন মামলার সওয়ালে অংশ নিতে পারেন না। সোমবার এই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “এতে অস্বাভাবিক কী আছে? একজন মুখ্যমন্ত্রী আদালতে নিজের বক্তব্য জানাচ্ছেন, এটি সংবিধানের প্রতি তাঁর আস্থারই প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেবেন না।”
এদিন মূল মামলার শুনানিতেও রাজ্যের ভোটারদের হয়রানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকায় নামের সামান্য বানান ভুল বা বয়সের তফাতের কারণে যেভাবে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তাকে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন বিচারপতিরা। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা কেবল সহায়তা করবেন, কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও এবং এইআরও-রাই। সোমবারের এই শুনানির পর রাজনৈতিক মহলের মতে, আইন ও সংবিধানের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তাকে শীর্ষ আদালত মান্যতা দেওয়ায় নবান্ন নৈতিক জয় পেল।








