তরুণীদের অশ্লীল মেসেজ পাঠানোর অভিযোগে চৈতন্যানন্দ পলাতক
নতুন পয়গাম,
নয়া দিল্লী, ২৪ সেপ্টেম্বর:
দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ এলাকার শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টে একজন আশ্রম পরিচালক ও ধর্মগুরু চৈতন্যানন্দ সরস্বতী বা পরিচিত নাম পার্থসারথী বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ছাত্রীদের অশ্লীল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠাতেন এবং অনৈতিক স্পর্শের চেষ্টা করতেন। পুলিশে অভিযোগ দায়েরের পর থেকে তিনি পলাতক এবং তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
তদন্তে মোট ৫০ জন তরুণীর ফোন পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ। এক মেসেজে চৈতন্যানন্দ লিখেছেন, “আমার ঘরে এসো। তোমার জীবন পালটে দেব। তোমাকে বিদেশে ঘুরতে নিয়ে যাব। একপয়সা লাগবে না।” অন্য একটি মেসেজে তিনি হুমকি দিয়ে লেখেন, “যদি তুমি আমার কথা না শোনো, তাহলে পরীক্ষায় তুমি অনুত্তীর্ণ হবে।” এছাড়া জানা গেছে, দরিদ্র তরুণীদের আর্থিক উন্নতির প্রতিশ্রুতিও তিনি মেসেজে দিতেন।
চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রথম রুজু হয় ২০০৯ সালে। সেই সময় তার বিরুদ্ধে তহবিল তছরুপ ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। পরে ২০১৬ সালে এক মহিলারও শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের হয়। এবার অভিযোগ আরও বিস্তৃত আকার নিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর ভলভো গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা নকল নম্বর প্লেট সহ পাওয়া গেছে।
আশ্রমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চৈতন্যানন্দ বা পার্থসারথী “বেআইনি এবং অনুচিত কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন”, তাই পীঠের সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তারা আরও বলেছে, অভিযুক্তের ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় কমিউনিটি সতর্ক করা হয়েছে এবং আশ্রমের তরুণীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুখ্যাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পলাতক চৈতন্যানন্দ যদি ধরা না পড়ে, তাহলে নতুনভাবে নৈতিক ও আর্থিক প্রলুব্ধতার মাধ্যমে তরুণীদের ক্ষতি করতে পারেন। পুলিশ এবং প্রশাসন আপাতত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।








