এআই নিয়ে মধ্যমপন্থার পক্ষে কেন্দ্র
নতুন পয়গাম, কলকাতা: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এখনই জোরালো আইন আনতে রাজি নয় কেন্দ্র সরকার। কারণ, এতে এআই সংক্রান্ত উদ্ভাবনে ভাটা পড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে যে প্রযুক্তিগত সুবিধা মিলছে, তা থমকে যেতে পারে। কলকাতায় বণিকসভার এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণন বলেন, এআই নিয়ে আমরা আপাতত মধ্যপন্থা নিয়েছি। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কিন্তু এখনই ভারত সরকার তাকে জোরালো আইন বা নিয়মে বাঁধতে চায় না।
এআই ব্যবহারে চাকরি যাওয়ার যে আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে, তাকেও খুব একটা পাত্তা দিতে রাজি নন তাঁরা। তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত ‘উন্নয়নশীল’ তকমা থেকে বেরিয়ে ‘উন্নত’ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চাইছে। এই অবস্থায় এআইকে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। এর আগে শিল্প বিপ্লবের সময় কায়িক পরিশ্রমের জায়গা নিয়েছিল প্রযুক্তি। পশ্চিমি দেশগুলো মনে করছে, অফিসে বসে তথাকথিত পেশাগত চাকরির বাজার বা হোয়াইট কলার জব নষ্ট করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তাতে অনেকটাই ধাক্কা খাবে চাকরির বাজার।
তবে ভারতের ক্ষেত্রে এই সমস্যা ততটা প্রকট হবে না বলেই জানিয়েছেন কৃষ্ণণ।
তিনি বলেন, ভারতে এ ধরনের হোয়াইট কলার চাকরির বাজার সীমিত। তাই এখানে এআই-এর কারণে চাকরি ছাঁটাইয়ের খুব একটা আশঙ্কা নেই। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের সহায়তায় তাঁরা এআই ডেটা সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে এমনই তিনটি ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা করেছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।
তাঁর দাবি, এআই নিয়ে দেশে যত কাজ হচ্ছে, তার ৬০ শতাংশই ব্যবসায়িক উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ ভারতকে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে। আইআইটি-সহ দেশের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যেভাবে এআই নিয়ে কাজ করছে, তাতে গোটা বিশ্ব এক্ষেত্রে ভারতের উপর নির্ভরশীল হতে পারে।








